ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার জেরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের কারণে রাজ্যে প্রতিদিন ৩-৪ জন মানুষ আত্মঘাতী হচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই ১১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন ৩-৪ জন মানুষ SIR-এর আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। আরও ৪০-৪৫ জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এত বছর পর আমাদের প্রমাণ দিতে হবে যে আমরা এই দেশের নাগরিক কি না?” বিজেপি-কে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বি আর আম্বেদকর এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মণীষীদের অপমান করা হচ্ছে। ভারতের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।”
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র (logical discrepancy) দোহাই দিয়ে রাজ্যে ১.৩৮ কোটি মানুষকে শুনানির জন্য তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এই সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বাঙালি পদবির বানান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বাঙালিরা তাঁদের পদবি বিভিন্নভাবে লেখেন। যেমন আমার পদবি ‘Banerjee’ আবার ‘Bandopadhyay’-ও লেখা হয়। যারা SIR করাচ্ছে তারা কি এই সাধারণ বিষয়টিও জানে না? শুধুমাত্র এই বানানের সামান্য অমিলের কারণে ১.৩৮ কোটি মানুষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, আজ নেতাজি জীবিত থাকলে কি তাঁকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে শুনানির জন্য তলব করা হতো? প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে নোটিশ পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বয়স্ক মানুষদেরও এই প্রবল শীতের মধ্যে শুনানির জন্য টেনে আনা হচ্ছে। বিজেপি-কে ‘কৌরব’ পক্ষের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, আজ মানবতার সঙ্গে অমানবতার লড়াই চলছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন— সব ক্ষেত্রেই বিজেপি হস্তক্ষেপ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরিকল্পনা কমিশন তুলে দিয়ে নীতি আয়োগ গড়া এবং নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা না করা নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে নেতাজির বিখ্যাত স্লোগান ‘দিল্লি চলো’-র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মানবতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আরও একবার ‘দিল্লি চলো’ ডাক দেওয়ার সময় এসেছে।”
