ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ আগ্রাসনে প্রাণহানির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, এই হামলায় এ পর্যন্ত ৪১৪ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২১৬ জন নারী এবং ১৯৮ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ১১ জন। মোহাজেরানি জানান, হামলায় নিহত সবচেয়ে কম বয়সী শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আট মাস, যার মৃত্যু হয়েছে রোবাত করিম এলাকায়। এছাড়া বর্তমানে আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী আক্রান্ত হলো মাত্র চার মাস বয়সী এক শিশু।
আগ্রাসনের ফলে দেশটির চিকিৎসা পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ২১টি জরুরি চিকিৎসা ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ইউনিট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী।
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় ইরান সরকার বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং কিস্তি স্থগিতের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উৎপাদনমুখী শিল্পগুলোর ঋণের সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং বাউন্সড চেকের ক্ষেত্রে জরিমানা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিয়ম সহজ করা হয়েছে। আমদানির আদেশ ও লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ‘সাতা’ (SATA) কোড ছাড়াই জরুরি পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স এবং সড়ক নির্মাণকারী যন্ত্রপাতির আমদানির ওপর কর মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের তীব্রতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও দেশের অর্থনীতি এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরান সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
