TOP NEWS

গো-মাংস বহনের মিথ্যা অপবাদ, শরিফকে নৃশংসভাবে গণপিটুনি হিন্দুত্ববাদীদের

(Photo Courtesy: X/Screenshot)

ডেইলি ডোমকল, লখনউ: যোগী রাজ্যে ফের হেনস্থা ও শারীরিক নিগৃহের শিকার হলেন এক মুসলিম ব্যক্তি। পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী শরিফ কুরেশি নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে শারীরিক নিগৃহ ও হেনস্থা করে একদল হিন্দুত্ববাদী বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলায় তার দোকানে মাংস বিক্রির অভিযোগে তাঁর ওপর চড়াও হয় তারা। দোকানে যাওয়ার পথে কুরেশিকে রাস্তায় ঘিরে ধরে তারা। মাংস বিক্রির অভিযোগে তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর ও হেনস্থা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দোকানে যাওয়ার পথে কুরেশির পথ আটকায় একদল কট্টরপন্থী। তারা মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে বলে, তিনি ব্যাগে নিষিদ্ধ মাংস (গো-মাংস) নিয়ে যাচ্ছে। এরপরই একদল উন্মত্ত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে নির্মম ভাবে মারধর করে। একইসঙ্গে তাঁর ধর্ম পরিচয় নিয়েও কটুক্তি ও গালিগালাজ করে। মারধরের জেরে মুসলিম ব্যক্তি সজ্ঞানহীন হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় কট্টরপন্থীরা। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়। গোটা ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেছেন স্থানীয় মিম নেতা। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। মিম নেতা ইয়ামিন খান আব্বাসি বলেন, কুরেশি ১৫-২০ বছর ধরে হারদুয়াগঞ্জ অঞ্চলে মহিষের মাংস বিক্রি করে আসছেন। নিত্যদিনের মতো শনিবার তিনি একটি কসাইখানা থেকে মাংস কিনে নিয়ে তাঁর দোকানে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একদল কট্টরপন্থী তাঁকে হেনস্থা ও মারধর করে। আমরা আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

ভাইরাল একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, একদল উন্মত্ত জনতা কুরেশির পথ আটকে তাঁকে নির্মমভাবে হেনস্থা ও শারীরিক নিগৃহ করছে। হামলাকারীরা তাঁর মোটর বাইকটি ভাঙচুর করে। কুরেশীর এক আত্মীয় শামীম আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি কোনও বেআইনি মাংস নিয়ে যাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁর দোকানে আইনত অনুমোদিত মহিষের মাংস বিক্রি করেন। এদিন মহিষের মাংস কিনে দোকানে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বজরং দল এবং কট্টরপন্থী গোষ্ঠীরা তাঁকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। কুরেশি আইনি পরিচয়পত্র এবং পারমিট দেখালেও হামলাকারীরা নথি ছিঁড়ে ফেলে। কট্টরপন্থীরা তাঁর মোবাইল ফোন এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে। আলমের কথায়, “হিন্দুত্ববাদীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই জোরপূর্বক ওই মাংসকে ‘গরুর মাংস’ বলে দাগিয়ে দেয়। তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি সজ্ঞানহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীদের বেশকয়েকজন স্থানীয় থানায় বসে থাকলেও তাদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

এদিকে মিম নেতা দাবি করেছেন, কেরনি সেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দলের মতো হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই মসজিদের ইমাম এবং বিক্রেতা সহ স্থানীয় মুসলমানদের হেনস্থা ও ভয় দেখায়। এই ঘটনার আগে হরদুয়াগঞ্জে চার মুসলিমকে গণপিটুনির চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব গোষ্ঠী এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমি এসএসপিকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

পুলিশ সূত্রে খবর, আলিগড়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাংস সরবরাহকারীর কাছ থেকে ২০-২৫ কেজি মাংস কিনে নিয়ে দোকানে নিয়ে যাচ্ছিলেন কুরেশি। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মাংসের প্রকৃতি নির্ধারণ করতে মথুরার একটি পরীক্ষাগারে মাংস পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হরদুয়াগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অনুজ পণ্ডিত, শীলু রাজপুত, নবীন চৌধুরী, সুমিত ঠাকুর, আদিত্য হিন্দু, যশু পণ্ডিত এবং প্রশান্ত জাটভের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!