ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে বেআইনি কার্যকলাপ দমন আইনে (ইউএপিএ) গ্রেপ্তারের সংখ্যা এবং মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, ২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ইউএপিএ’তে মোট ৮৭১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ২২২টি মামলায় সাজা হয়েছে। যা মোট মামলার ৩ শতাংশেরও কম। বাকি ৯৭ শতাংশ মামলা বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। ইউএপিএ মামলা যেমন বেড়েছে, একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে ইউএপিএ আইনে মোট গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ৯৪৮ জন, ২০২০ সালে ১২৩১ জন, ২০২১ সালে ১৬২১ জন, ২০২২ সালে ২৬৩৬ জন এবং ২০২৩ সালে ২৯২১ জন। দেখা গেছে প্রতি বছর ধাপে ধাপে বেড়েছে গ্রেপ্তারের সংখ্যা। তার সঙ্গে বেশির ভাগ মামলা ঝুলে থাকায় মামলার ফয়সালা ও সাজার ঘটনাও কম। গত পাঁচ বছরে মোট গ্রেপ্তার যেখানে ১০,৪৪০ জন। তাতে সাজার হয়েছে মাত্র ৩৩৫ জনের।
এদিকে ইউএপিএ’র রাজ্য ভিত্তিক গ্রেপ্তারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট গ্রেপ্তারের ৯০ শতাংশ হয়েছে বিজেপি’র ডবল ইঞ্জিন সরকারের চার রাজ্যে। তার মধ্যে ৬১ শতাংশ মণিপুরে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরের বছর গ্রেপ্তারের হার কমে যায়। আসামে গ্রেপ্তার হয় ১১ শতাংশ। এছাড়া বিহার ৭ শতাংশ ও উত্তরপ্রদেশে ১৪ শতাংশ।
অনেক সময়ে দেখা গেছে এই ইউএপিএ মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তার প্রাথমিক বিচার প্রক্রিয়াই শুরু হয় না। এভাবে বিনা বিচারে জেলে বন্দি থেকে যায় এই মামলায় অভিযুক্তরা। বিভিন্ন আদালতে যেসব ইউএপিএ মামলা ৫ বছরের উপর ঝুলে রয়েছে। ন্যাশল ক্রাইম রেকর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ এই সময়ে ইউএপিএ ৪৩.১ শতাংশ মামলা ১ থেকে ৩ বছরের উপর ঝুলে রয়েছে, ৩ থেকে ৫ বছর ঝুলে থাকা মামলা রয়েছে ১৭ শতাংশ এবং ৫ বছরের উপরের বেশি সময় ঝুলে থাকা মামলা রয়েছে ১০ শতাংশ। সুপ্রিম কোর্ট সব আদালতকে ইউএপিএ মামলার দ্রুত ফয়সালার নির্দেশ দেওয়ার পর অবস্থার বিশেষ কোনও বদল হয়নি। ধর্ষকের মুক্তির মামলা তড়িঘড়ি ফয়সালা হয়ে যায়। সরকার বিরোধী প্রতিবাদীদের মামলার দ্রুত ফয়সালা হয় না। ইউএপিএ মামলা জমে পাহাড় হয়ে যাওয়ার মূল কারণ সরকার বিরোধিতা বলে মনে করে বিরোধীরা।
বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করছে তাঁদের সন্ত্রাসবাদী দাগিয়ে এই আইন ব্যবহার কর গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একবার গ্রেপ্তার করে মামলা ঝুলিয়ে রেখে তাদের হয়রান করা হচ্ছে। উমর খালিদের মতো বহু অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মামলার দ্রুত ফয়সালা হয় না। জামিন মেলে না। অন্যদিকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত বিজেপি নেতা কিংবা স্বঘোষিত ধর্মগুরুরদের অনায়াসেই জামিন হয়ে যায়। উত্তরপ্রদেশের উনাও ধর্ষণ কাণ্ডে জেল খাটা বিধায়ক কুলদীপ সিং, বাবা রাম রহিম কিংবা গুজরাটের বিলকিস বানোর মামলায় দোষীসাব্যস্ত ধর্ষকদের মুক্তি সবই এর উদাহরণ। শাসকের সাদর অভ্যর্থনা তাঁদের মিলেছে।
