ডেইলি ডোমকল, চেন্নাই: নাবালক কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া আইন প্রণয়নের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। অস্ট্রেলিয়ার মতো এদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারে আইন প্রণয়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয়কে বার্তা দিল আদালত। ১৬ বছরের নীচে কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রণীত আইনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতিরা। জানা গিয়েছে, শিশুদের পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট থেকে রক্ষা করতে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে ‘প্যারেন্টাল উইন্ডো’ চালু করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি জি জয়চন্দ্রন ও কে কে রামকৃষ্ণন।
আদালতে দায়ের করা পিটিশনে বলা হয়, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য কেন্দ্রকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করতে বলুক আদালত। ইন্টারনেট পরিষেবা যারা দেয়, তাদেরকে ‘প্যারেন্টাল উইন্ডো’ চালু করতে হবে। যেন ছোটদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি থাকে। এইভাবেই পর্নোগ্রাফির মতো নানা ক্ষতিকারক বিষয় থেকে শিশুদের দূরে রাখা সম্ভব। আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, স্টেকহোল্ডারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বা ‘প্যারেন্টাল উইন্ডো’ থাকলে শিশুদের কাছে সহজলভ্য অশ্লীল ও ক্ষতিকর পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের সদ্য পাশ হওয়া আইনের কথাও উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে একই ধরনের আইন প্রণয়ন করতে পারে।
এদিন আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি ব্যবহারকারীর দিকেই থাকা প্রয়োজন, যা সম্ভব কেবলমাত্র ডিভাইসে কার্যকর প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপ থাকলে। পাশাপাশি, শেষ ব্যবহারকারীদের শিশু পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা এবং তা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করে আদালত। বিচারপতিরা বলেন, শিশুরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে এবং এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর আইনজীবীর প্রস্তাবের উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, অস্ট্রেলিয়ার মতো আইন প্রণয়নের বিষয়টি কেন্দ্রের খতিয়ে দেখা উচিত এবং যতদিন না সে ধরনের আইন পাশ হচ্ছে, ততদিন মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর সচেতনতা প্রচার চালানো একান্ত প্রয়োজন। এদিকে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এবং তামিলনাড়ু শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন যৌথভাবে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিশু পর্নোগ্রাফির বিপদের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তা বাস্তবায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
প্রসঙ্গত, বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর সংসদে পাশ হওয়া ওই আইনের মাধ্যমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়— ১৬ বছরের নীচের ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩২.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছিলেন, “এই সংস্কার অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের জীবন বদলে দেবে। তারা আবার তাদের শৈশব উপভোগ করার সুযোগ পাবে।”
