ডেইলি ডোমকল, ঢাকা: দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে মৃত্যু হয় খালেদা জিয়ার। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা। এদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টায় গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে জানিয়েছেন, “আম্মা আর নেই।”
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনিসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শরীরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিলো এবং তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।
শোকপ্রকাশ ইউনূসের
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি লেখেন, ‘দেশ এক মহান অভিভাবককে হারাল। আমি অত্যন্ত ব্যথিত। খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিকই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ দিনের লড়াই, তাঁর প্রতি দেশের মানুষের আবেগকে সম্মান জানিয়ে এই সরকার তাঁকে এ মাসেই রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘোষণা করেছে।’
শোকপ্রকাশ হাসিনার
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ঢাকায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর এক লিখিত শোকবার্তায় তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” শেখ হাসিনা আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্রয়াণ শুধু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যই নয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও এক অপূরণীয় ক্ষতি। জাতির প্রতি তাঁর অবদান ভোলার নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শোকবার্তায় তিনি মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিও সমবেদনা জানান শেখ হাসিনা। হাসিনার কথায় বলেন, “আমি তাঁর পুত্র তারেক রহমান ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। বৃহত্তর বিএনপি পরিবারের প্রতিও আমার সহমর্মিতা রইল।” সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন এই শোক সামলানোর জন্য তাঁদের ধৈর্য, শক্তি ও সান্ত্বনা দান করেন—এই প্রার্থনাও করেন তিনি।
শোকপ্রকাশ মোদির
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দুঃখ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এক্স বার্তায় নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়ন এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তাঁর দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।
