ডেইলি ডোমকল, আলিপুরদুয়ার: নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়তৃণমূল সাংসদ। উত্তরবঙ্গের বিজেপি-প্রভাবিত এলাকা আলিপুরদুয়ারে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে চেনেন? তিনি একজন জাদুকর। জীবিত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে উধাও করে দিতে পারেন, আবার মৃতদের হাঁটিয়ে আনতে পারেন। তিনি এখন ‘ভ্যানিশ কুমার’।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আtগে পশ্চিমবঙ্গে চলা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেআইনিভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে বারবার নির্বাচন কমিশন ও সিইসিকে নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেকের দাবি, যোগ্য ভোটারদের নাম নির্বিচারে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা ও তথ্য জানতে দলের নেতারা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন। এরপরই কমিশনকে নিশানা করে তৃণমূল নেতা বলেন, “আমরা বলেছিলাম, সব তথ্য প্রকাশ্যে আনুন। কিন্তু এখন জাদু চলছে—জীবিত নাগরিকরা উধাও হয়ে যাচ্ছেন।”
এদিন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকেও কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “দশ বছর আগে নোটবন্দির সময় মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছিল। কালো টাকা কমেনি, বরং বেড়েছে। এখন আবার মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। আগে মানুষ সরকার বেছে নিত, এখন সরকার ঠিক করতে চাইছে কে ভোটার হবে।” ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ ইভিএমে ভোট দিয়ে বিজেপিকে “উচিত শিক্ষা” দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, বিজেপি গণতান্ত্রিক অধিকার দুর্বল করছে। “যারা সংবিধান বদলাতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা থেকে সরবে,” বলেও সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প—বিশেষত মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প—বন্ধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি বলে অভিযোগ তোলেন অভিষেক। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “এখনই পাল্টা আঘাত না করলে তারা আপনার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।” তাঁর মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের জন্য অত্যন্ত নির্ণায়ক।
