ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী জুয়েল রানাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্তরা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন দাবি করেছিল। এনিয়েই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করল ওড়িশা পুলিশ। যদিও এর আগে ‘বিড়ি’ নিয়ে তর্ক থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করেছিল পুলিশ। দু’বার দু’রকমের পুলিশের তত্ত্ব নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই জুয়েল খুনকাণ্ডে পুলিশের দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা নিয়েও ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। পুলিশ দাবি করেছিল, তাঁদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তাঁরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এতে পুলিশের দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করা হলেও, তদন্ত চলমান এবং টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড বাকি থাকার যুক্তিতে পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের পরিচয় বা পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল সম্বলপুরে গিয়ে সমান্তরাল তদন্ত শুরু করলেও, সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার একদল নাগরিক সম্বলপুরের জেলাশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে জেলার মধ্যে ঘৃণার পরিবেশ ক্রমশ বেড়ে চলেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্ম, জাতীয়তা ও ভাষাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা কিছু বয়ান যুবসমাজকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলস্বরূপ এমন অপরাধ ঘটছে। এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ২০ বছর বয়সি বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার হত্যাকাণ্ডের কথা। স্মারকলিপিতে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করার অজুহাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রানি করার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, জেলায় কোনও বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করলে, আইন মেনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান মুর্শিদাবাদের জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ঘরে জুয়েল, আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেনরা রান্না করছিলেন। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তাদের ওপর চড়াও হয়। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাদের নির্মম ভাবে মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় জুয়েল রানার। বাকি দু’জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
