ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে নিজেকে একজন সিনিয়র আইএএস অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন এক ব্যক্তি। অবশেষে ভুয়ো আইএএসকে পাকড়াও করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। অভিযুক্তের নাম রাজেশ কুমার (৩৫)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি হাইডারনগর থানার অন্তর্গত কুখি গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় টানা চারবার ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পরিবার ও আত্মীয়দের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন তিনি আইএএস অফিসার হয়ে গেছেন। ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলার পুলিশ ভুয়ো আইএএসকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি। ওই দিন রাজেশ কুমার একটি জমি সংক্রান্ত বিবাদে এক আত্মীয়ের বিষয়ে কথা বলতে হুসেনাবাদ থানায় যান এবং স্টেশন হাউস অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে চান। তিনি নিজেকে ২০১৪ ব্যাচের ওড়িশা ক্যাডারের আইএএস অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, তিনি ভুবনেশ্বরে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার পদে কর্মরত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেরাদুন, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে তাঁর পোস্টিং নিয়ে তিনি পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে আইএএস-এর সমতুল্য আইপিটিএএফএস কর্মকর্তা বলেও দাবি করেন এবং পরে থানা থেকে চলে যান। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর এসডিপিও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন এবং তাতে জানা যায়, রাজেশ কুমার আইপিটিএএফএস কর্মকর্তা নন এবং কোনও সরকারি দফতরে কর্মরত নন।
পরে তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হলে তিনি নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র বা বিভাগীয় কোনও নথি দেখাতে ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি অফিসার সেজে থাকার কথা স্বীকার করেন। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র, একটি ভুয়ো নেমপ্লেট ও অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। হুসেনাবাদের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) এমডি ইয়াকুব জানান, অভিযুক্তের বাবার স্বপ্ন ছিল তাঁর ছেলে একজন আইএএস অফিসার হবেন। রাজেশ কুমার চারবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন, কিন্তু সফল হননি। এরপর তিনি তাঁর বাবা, পরিবার ও আত্মীয়দের কাছে মিথ্যা দাবি করেন যে তিনি ইন্ডিয়ান পোস্টস অ্যান্ড টেলিগ্রাফস অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিনান্স সার্ভিস (আইপিটিএএফএস)-এর কর্মকর্তা হয়েছেন। এসডিপিও বলেন, “গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে একজন ভুয়ো অফিসার হিসেবে জীবনযাপন করছিলেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুসেনাবাদ থানায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজেশকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
