ডেইলি ডোমকল, ওয়াশিংটন: শুল্ক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ওপর “খুব একটা খুশি নন” মঙ্গলবার একথাই বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় তৈরি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের দ্রুত ডেলিভারিও চাইছে ভারত বলে জানিয়েছেন তিনি। হাউস GOP মেম্বার রিট্রিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, বহু বছর আগে অর্ডার দেওয়া সামরিক সরঞ্জাম—বিশেষ করে অ্যাটাক হেলিকপ্টার—দ্রুত সরবরাহের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিচ্ছে নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সময়সীমা ও বিদেশি সামরিক বিক্রির প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি বলেন, “মানে, ভারত আমার কাছে এসেছিল—স্যার, আমি পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করছি; আমরা এটা বদলাচ্ছি, আমরা বদলাচ্ছি।” ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছে ভারত এবং এই বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাছে তুলেছিলেন। “ভারত ৬৮টি অ্যাপাচে অর্ডার দিয়েছে, আর প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাকে দেখতে এসেছিলেন—স্যার, আমি কি আপনাকে দেখতে পারি?”—ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প যোগ করেন, “হ্যাঁ, তাঁর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক আছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, বাণিজ্য নীতিকে ঘিরে সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন রয়েছে।
“ও (মোদি) আমার ওপর খুব একটা খুশি নন, কারণ এখন তারা অনেক শুল্ক দিচ্ছে,” বলেন ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের অধীনে আরোপিত শুল্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। শুল্ককে অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল রাজস্ব পেয়েছে এবং বাণিজ্য অংশীদারদের ছাড় দিতে বাধ্য করা গেছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের বক্তৃতায় তিনি ভারতের অ্যাপাচে অর্ডারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দেরি হচ্ছে—যার প্রভাব পড়ছে মার্কিন বাহিনী ও বিদেশি ক্রেতা—দু’পক্ষের ওপরই।
“এফ-৩৫ হোক বা অ্যাপাচে হেলিকপ্টার—সবকিছু পেতে খুব বেশি সময় লাগে,” বলেন তিনি। ভারতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের উৎপাদন দ্রুত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রশাসন মিত্র ও অংশীদারদের কাছে সরঞ্জাম দ্রুত পৌঁছে দিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে।
দেশীয় রাজনীতি, বাণিজ্য, শুল্ক ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তৃত ভাষণের মধ্যে ভারতের প্রসঙ্গ ছিল সংক্ষিপ্ত হলেও তা তাৎপর্যপূর্ণ—যেখানে একদিকে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গভীরতা, অন্যদিকে বাণিজ্য ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট ঘর্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা ভারত। কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার ও নজরদারি প্ল্যাটফর্ম কিনেছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
