ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো আইন)-এর ব্যাপক অপব্যবহার রোধে শুক্রবার কেন্দ্র সরকারকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, এই আইনটির কঠোর বিধান থেকে ‘প্রকৃত কিশোর-কিশোরী সম্পর্ক’কে ছাড় দিতে একটি ‘রোমিও–জুলিয়েট’ ধারা যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ জানায়, “এই আইনগুলির অপব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বারবার বিচারিক নজর পড়েছে। তাই এই রায়ের একটি কপি ভারতের আইন সচিবের কাছে পাঠানো হোক, যাতে এই সমস্যার মোকাবিলায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। যার মধ্যে প্রকৃত কিশোর-কিশোরী সম্পর্ককে এই আইনের কঠোরতার বাইরে রাখার জন্য একটি রোমিও–জুলিয়েট ধারা সংযোজন এবং এই আইন ব্যবহার করে ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।”
উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি আবেদনের সূত্র ধরে মামলাটি শীর্ষ আদালতে আসে। ওই আবেদনে এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যেখানে এক যৌন নিপীড়ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। মামলাটি আপাতত এক নাবালিকা মেয়েকে ঘিরে বলে জানা গেছে। আপিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানায়, পকসো আইনের মামলায় জামিনের পর্যায়ে ভুক্তভোগীর বাধ্যতামূলক চিকিৎসাগত বয়স নির্ধারণের নির্দেশ দিতে পারে না হাইকোর্ট। বেঞ্চ আরও বলে, হাই কোর্ট তার জামিন সংক্রান্ত এখতিয়ার ব্যবহার করে ‘মিনি-ট্রায়াল’ চালাতে বা বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী বাধ্যতামূলক তদন্তমূলক প্রোটোকল জারি করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “হাইকোর্ট যে একটি সাংবিধানিক আদালত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এখতিয়ারগত ত্রুটি হয়েছে সংবিধানগত ক্ষমতা নয়, বরং একটি বিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগের সময়।”
