TOP NEWS

দুঃসাহস দেখালেই কড়া জবাব! ইসলামাবাদকে সরাসরি হুঁশিয়ারি সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর

(Chief of Army Staff General Upendra Dwivedi. || Image Credit: X/@adgpi)

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি লক্ষ্য করে গত বছর শুরু হওয়া অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে বলে জানালেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইসলামাবাদের কোনও “দুঃসাহসিক পদক্ষেপ” হলে তা “কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে”। সেনাপ্রধানের কথায়, “৭ মে মাত্র ২২ মিনিটের সূচনাপর্ব এবং ৮৮ ঘণ্টার সুসমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এই অপারেশন গভীরে আঘাত হেনে সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বাগাড়ম্বর ভেঙে দিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জবাবে ৭ মে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। ওই হামলা চালায় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), যা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি প্রক্সি সংগঠন বলে জানানো হয়েছে। নতুন বছরে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে জেনারেল দ্বিবেদী জানান, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় সেনা বাহিনী তাদের বাহিনী মোতায়েন করেছিল এবং পাকিস্তান কোনও ভুল করলে স্থল অভিযান চালানোর জন্য তারা “সম্পূর্ণ প্রস্তুত” ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান ও PoK-তে একাধিক জঙ্গি শিবিরে আঘাত হানে এবং এতে ১০০-র বেশি জঙ্গি নিহত হয়। এরপর পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালেও তা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত করে। পাল্টা জবাবে ভারত পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “অপারেশন সিঁদুর ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনা ও পূর্ণ স্বাধীনতার অধীনে ত্রি-সেনা সমন্বয়ের সেরা উদাহরণ।”

সেনাপ্রধানের বক্তব্য, “এইবার আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি—বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরে যে ধরনের গোলাগুলি হয়েছে এবং যেভাবে তার জবাব দেওয়া হয়েছে—তা সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিসর সম্প্রসারিত করেছি। ওই ৮৮ ঘণ্টায় সেনার মোতায়েন এমন পর্যায়ে ছিল যে পাকিস্তান কোনও ভুল করলে আমরা স্থল অভিযান শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম।” তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পর পশ্চিম সীমান্ত ও জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি “সংবেদনশীল হলেও দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “২০২৫ সালে মোট ৩১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশ ছিল পাকিস্তানি নাগরিক। পহেলগাম হামলার তিন অভিযুক্তকে অপারেশন মহাদেব-এ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।”

তাঁর দাবি, বর্তমানে সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। দ্বিবেদী বলেন, “জঙ্গি নিয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে—২০২৫ সালে মাত্র দু’টি ঘটনা ঘটেছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে—উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জোরদার হয়েছে, পর্যটন ফিরছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে শ্রী অমরনাথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে চার লক্ষের বেশি তীর্থযাত্রী অংশ নিয়েছেন, যা গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়েও বেশি। ‘সন্ত্রাস থেকে পর্যটন’-এর পথে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!