ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস-এর অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন, সংঘের প্রতিষ্ঠাতা কে বি হেডগেওয়ার ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করার জন্য নয়, বরং ‘খিলাফত আন্দোলন’-কে সমর্থন করার কারণে জেলে গিয়েছিলেন।
আগামী ১৫ জানুয়ারির পুরনিগম নির্বাচনের আগে সোমবার ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ওই অঞ্চলে বাংলাদেশিদের উপস্থিতির দাবি ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, যদি সেখানে কোনও বাংলাদেশি অভিবাসী পাওয়া যায়, তা হলে সেটি নরেন্দ্র মোদি সরকারের ব্যর্থতারই প্রমাণ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, শাসক দল বিজেপি এই ধরনের বয়ান ব্যবহার করে তাদের হিন্দুত্বের রাজনীতি এগিয়ে নিতে এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে কটাক্ষ করে ওয়াইসি বলেন, “ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে কোনও আরএসএস নেতা কি কখনও জেলে গিয়েছেন? ওরা বলে হেডগেওয়ার জেলে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি খিলাফত আন্দোলনের সমর্থনে কারাবন্দি হয়েছিলেন। আর আজ ওরাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণার কথা বলে।” তিনি আরও বলেন, “আরএসএস আমাদের দেশপ্রেমের পাঠ দেয়, কিন্তু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের কারও কি প্রাণ গিয়েছে? বরং মুম্বইয়ের সমাজতান্ত্রিক নেতা ইউসুফ মেহেরালিই ‘কুইট ইন্ডিয়া’ ও ‘সাইমন গো ব্যাক’-এর মতো স্লোগান দিয়েছিলেন। ওরা ইতিহাস পড়ে না, অথচ আমাদের বাংলাদেশি বলে দাগায়।”
উল্লেখ্য, খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯–১৯২৪) ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সুলতানের (ইসলামের খলিফা) কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবিতে ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে মুসলমানদের এক আন্দোলন। এদিন সরকারকে নিশানা করে ওয়াইসি বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সীমান্তে ১০ কিলোমিটার বেড়াও সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র। তিনি আরও দাবি করেন, “চিন ও আইএসআই বাংলাদেশে পৌঁছে গেছে, আর এখানে বিজেপি ও আরএসএস শুধু ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ বলেই চলেছে।”
আসন্ন পুরনিগম নির্বাচনে মানুষকে বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওয়াইসি বলেন, মহারাষ্ট্রে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) হলে শক্তিশালী ভোটদানের হারই নাগরিকদের অংশগ্রহণের প্রমাণ হবে। নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে থাকার কথা, কিন্তু “মোদি সরকার সেই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে,” অভিযোগ করেন ওয়াইসি।
