ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠা নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নিতে তুরস্ক আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। প্রস্তাবিত এই জোট ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে গঠিত হবে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর যে কোনও একটির বিরুদ্ধে হামলাকে সকলে মিলে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি থাকবে। মূল চুক্তি হয়েছিল রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে; তবে এখন তা অগ্রসর পর্যায়ে আছে আঙ্কারার সঙ্গে।
আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক টিইপিএভির কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজকান বলেন, সম্ভাব্য ব্যবস্থায় সৌদি আরব আর্থিক সহায়তা দেবে, পাকিস্তান তার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা, ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ও সৈন্য শক্তি প্রদান করবে এবং তুরস্ক যুক্ত করবে সামরিক দক্ষতা ও স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা শিল্প। ওজকান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যখন অঞ্চলে নিজস্ব স্বার্থ ও ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ও সংঘাতের ছায়ায় দেশগুলো বন্ধু–শত্রু চিহ্নিত করতে নতুন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।”
বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অংশে তিন দেশের কৌশলগত স্বার্থ ক্রমেই মিলছে— ফলে বিস্তৃত জোট গঠনের পদক্ষেপ “যৌক্তিক পরবর্তী ধাপ”। ইতিমধ্যে সমন্বয়ও শুরু হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঙ্কারায় প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় নৌবাহিনীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ
সম্ভাব্য সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে— তুরস্ক কেবল আঞ্চলিক খেলোয়াড় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর দীর্ঘদিনের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী দেশ। সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয় দেশই শিয়া-প্রধান ইরান নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদিও তারা তেহরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা সুন্নি নেতৃত্বাধীন স্থিতিশীল সিরিয়া ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান রাখে।
তুরস্ক–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পুরনো ও শক্তিশালী
পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও দৃঢ়। আঙ্কারা পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে, পাকিস্তানের বহু এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন করেছে এবং ইতিমধ্যে ড্রোন প্রযুক্তি রিয়াদ ও ইসলামাবাদ— উভয়ের সঙ্গেই ভাগ করছে। তুরস্ক পূর্বে সৌদি ও পাকিস্তানকে তার পঞ্চম প্রজন্মের ‘কান’ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল।
ভারত–পাক সংঘর্ষের পর আলোচনা ত্বরান্বিত
তিন দেশের এই আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতবিরতি— যা ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটায়। ওই সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, যা ‘অপারেশন সিন্ধূর’ নামে পরিচিত, চলাকালে তুরস্ক প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়।
