TOP NEWS

ভারত যতদিন ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হবে, ততদিনই সে ‘বিশ্বগুরু’: মোহন ভাগবত

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার বলেছেন যে, যতদিন ভারতকে ‘ধর্ম’ পথ দেখাবে, ততদিনই এই দেশ ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে টিকে থাকবে। তাঁর মতে, আধ্যাত্মিকতার এই অনন্য জ্ঞান বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। এদিন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্মই সমগ্র মহাবিশ্বের চালিকাশক্তি এবং বিশ্বসংসারের সবকিছুই এই নীতির ওপর ভিত্তি করে চলে।

মোহন ভাগবত বলেন, ভারত তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এক সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার লাভ করেছে এবং আজও সাধু-সন্তদের নির্দেশনায় সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর কথায়, “ভারত যতদিন ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হবে, ততদিন সে ‘বিশ্বগুরু’ থাকবে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের কাছে এই জ্ঞান নেই কারণ সেখানে আধ্যাত্মিকতার অভাব রয়েছে। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে।”

রথযাত্রার রূপক টেনে আরএসএস প্রধান বলেন, “নরেন্দ্র ভাই (মোদী) হোন, আমি বা আপনারা—আমাদের সকলকে একটি একক শক্তি চালিত করছে। যানটি যদি সেই শক্তির দ্বারা চালিত হয়, তবে কখনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। সেই চালকই হলো ‘ধর্ম’।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ধর্ম কেবল মহাবিশ্বের চালকই নয়, বরং সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে যে নিয়মগুলো এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করেছে, সেগুলোই হলো ধর্ম।

ভাগবতের মতে, ধর্মকে কেবল ধর্মের (Religion) সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রকৃতির প্রতিটি সত্তার নিজস্ব কর্তব্য ও শৃঙ্খলা রয়েছে। তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্র ‘সেকুলার’ বা ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু কোনো মানুষ বা সৃষ্টিই ধর্ম ছাড়া হতে পারে না।” উদাহরন দিয়ে তিনি বলেন, “প্রবাহিত হওয়া জলের ধর্ম, একইভাবে দহন করা আগুনের ধর্ম। তেমনি একজন পুত্রের কর্তব্য, শাসকের শাসননীতি এবং আচরণের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা গভীর আধ্যাত্মিক গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই আইনগুলো অনুধাবন করেছিলেন। কুঁড়েঘরে থাকা একজন মানুষ হয়তো বড় বক্তৃতা দিতে পারেন না, কিন্তু ধর্ম তাঁর ধমনিতে প্রবাহিত হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!