TOP NEWS

‘৩৭০ ধারা মামলায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো খতিয়ে দেখার বড় সুযোগ হারিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট’: সলমন খুরশিদ

(Senior Congress leader Salman Khurshid. || File Photo)

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর (Federalism) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক পরীক্ষা করার সুযোগ হারিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মৌখিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আদালত এই মৌলিক বিষয়টি এড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ। সোমবার সাংবাদিক ও লেখক বশির আসাদের লেখা দুটি বই— “Kashmir: The Unfiltered Truth” এবং “House Without Witness”-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

খুরশিদ বলেন, ভারতীয় সংবিধান ভ্রাতৃত্ব, সাম্য এবং স্বাধীনতার কথা বললেও বিচারবিভাগীয় ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিষয়টি অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব পায় না। তাঁর কথায়, “৩৭০ ধারা সংক্রান্ত বিষয়টি যখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে এল, তখন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে কেন্দ্র যখন দ্রুত পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর আশ্বাস দিল, তখন আদালত আর এই গভীর তাত্ত্বিক বিতর্কে না ঢোকাই শ্রেয় মনে করল।” উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও জম্মু-কাশ্মীরকে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

৭৩ বছর বয়সী এই কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সহজ অর্থ হলো ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ভিন্নতাই ভারতের শক্তির উৎস। তিনি মনে করেন, জাতীয় সংহতির জন্য ‘অভিন্নতা’ বা ইউনিফর্মিটি অপরিহার্য নয়। তবে ভিন্ন মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ সিনহাও বক্তব্য রাখেন। লেখক বশির আসাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা মানুষেরা অনেক সময় কাশ্মীরিদের সাথে কথা বলার বদলে তাদের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াটাকেই স্বাভাবিক করে তুলেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা অনেক সময় ভূখণ্ড হিসেবে কাশ্মীরকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি, কিন্তু কাশ্মীরি জনগণকে ব্রাত্য করে রাখি। তাঁদের যন্ত্রণা ও কষ্টের কথা আমাদের শুনতে হবে। যন্ত্রণার কথা শুনলে আমরা অস্বস্তি বোধ করতে পারি, কিন্তু তাঁদের আশার সঙ্গে আমাদের যুক্ত হওয়া উচিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!