ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নিয়ে এবার কড়া সমালোচনা করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সর্বদা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে ইউরোপকে নিজস্ব ‘সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনী’ (United Armed Forces) গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (WEF) ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে
জেলেনস্কি বলেন, “ইউরোপকে নিজেকে রক্ষা করতে শিখতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ না দেওয়া পর্যন্ত অনেক দেশই তাদের জিডিপি-র ২.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। তিনি আরও বলেন, “ইউরোপ একটি উন্নত বিশ্ব গড়তে সাহায্য করতে পারে এবং অবশ্যই তা করা উচিত। কিন্তু তার জন্য শক্তির প্রয়োজন। নেতাদের উচিত সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া, অন্যের অপেক্ষায় বসে না থাকা।”
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নরম মনোভাবের সমালোচনা
আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘নরম’ অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডে ৪০ জন সেনা পাঠানো কোনো শক্তিশালী বার্তা দেয় না। পুতিনের রাশিয়া বা শি জিনপিংয়ের চিনের কাছে এটি হাসির খোরাক। হয় আপনারা ঘোষণা করুন যে ইউরোপীয় ঘাঁটি এই অঞ্চল রক্ষা করবে, নয়তো গুরুত্ব হারানোর ঝুঁকি নিন। ৪০ জন সৈন্য কিছুই রক্ষা করতে পারবে না।”
ইউক্রেন গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে সক্ষম
জেলেনস্কি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন যে, গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করার সক্ষমতা ইউক্রেনের রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জানি সেখানে কীভাবে লড়াই করতে হয়। আমরা যদি ন্যাটোতে (NATO) থাকতাম, তবে এই সমস্যার সমাধান করে দিতাম। ক্রিমিয়ার উপকূলে যেভাবে আমরা জাহাজ ডুবিয়েছি, গ্রিনল্যান্ডেও তা করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।”
ন্যাটো ও আমেরিকার ভূমিকা
ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইউরোপ কেবল এই বিশ্বাসের ওপর টিকে আছে যে বিপদ আসলে ন্যাটো ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাস্তবে জোটটিকে কেউ পুরোদমে সক্রিয় হতে দেখেনি। যদি পুতিন লিথুয়ানিয়া দখল করে বা পোল্যান্ডে হামলা চালায়, তবে কে জবাব দেবে? বর্তমানে ন্যাটো কেবল এই বিশ্বাসের ওপর টিকে আছে যে আমেরিকা সাহায্য করবে। কিন্তু যদি আমেরিকা সাহায্য না করে, তখন কী হবে?”
বেলারুশ ও ইরান প্রসঙ্গ
ইউরোপকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বেলারুশে মস্কোর প্রভাব বিস্তার এবং রুশ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রুখতে ইউরোপ যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া ইরানের সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ নিয়েও তিনি সরব হন। তাঁর মতে, বড়দিন আর নববর্ষের উদযাপনে মগ্ন বিশ্ব ইরানকে রক্তপাতের মুখে ফেলে দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই দমন-পীড়নের পরও ইরানের বর্তমান সরকার টিকে যায়, তবে তা বিশ্বের সমস্ত অত্যাচারী একনায়কদের কাছে এই বার্তাই দেবে যে— যথেষ্ট মানুষ মারলে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।”
