TOP NEWS

নিজের দোষে স্বামী অক্ষম হলে সুবিধা নিতে পারেন না স্ত্রী: খোরপোশ মামলায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

ডেইলি ডোনকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বৈবাহিক বিবাদের জেরে খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় এক ঐতিহাসিক রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, যদি স্ত্রীর কোনো কাজ বা আচরণের কারণে স্বামী উপার্জনের ক্ষমতা হারান, তবে সেই স্ত্রী স্বামীর কাছে খোরপোশ বা ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন না। স্বামীর উপার্জনের ক্ষমতা হারান মত পরিস্থিতিতে খোরপোশ মঞ্জুর করা হবে “ঘোরতর অন্যায়”।

কুশীনগরের পারিবারিক আদালতের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এক মহিলার দায়ের করা রিভিশন পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লার একক বেঞ্চ। ওই মহিলা ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ১২৫ নম্বর ধারার অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ দাবি করেছিলেন। ট্রায়াল কোর্ট আগেই এই আবেদন খারিজ করে জানিয়েছিল যে, স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের আক্রমণের কারণে স্বামী পঙ্গু হয়ে পড়ায় তিনি উপার্জনে অক্ষম।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ওই ব্যক্তি যখন তাঁর হোমিও ক্লিনিকে কাজ করছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী-র বাবা, ভাই এবং আরও চারজন সেখানে চড়াও হন। বচসার এক পর্যায়ে মহিলার ভাই গুলি চালালে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, গুলিটি এখনও ওই ব্যক্তির মেরুদণ্ডের হাড়ে আটকে আছে। সেটি অস্ত্রোপচার করে বের করার চেষ্টা করলে তিনি সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralytic) হয়ে যেতে পারেন।এই শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি দীর্ঘক্ষণ বসতে পারেন না এবং নিজের পেশা চালিয়ে যেতেও অক্ষম।

স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, স্বামী একজন ডাক্তার এবং তাঁর যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে, তাই স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়া তাঁর কর্তব্য। তবে বিচারপতি শুক্লা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, স্বামীর উপার্জনের ক্ষমতা “পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে স্ত্রীর ভাই ও বাবার অপরাধমূলক কাজের জন্য”। এদিন আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, “সাধারণত স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়া স্বামীর পবিত্র কর্তব্য। কিন্তু যদি স্ত্রী নিজের কাজ বা আচরণের মাধ্যমে স্বামীকে উপার্জনে অক্ষম করে তোলেন, তবে তিনি সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খোরপোশ দাবি করতে পারেন না। এমন ক্ষেত্রে খোরপোশ মঞ্জুর করা স্বামীর প্রতি অবিচার হবে।”

হাইকোর্ট ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের ‘শামীমা ফারুকি বনাম শাহিদ খান’ মামলার প্রসঙ্গ টেনে জানায় যে, স্বামীর খোরপোশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাঁর প্রকৃত উপার্জনের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। যেহেতু বর্তমান মামলায় আবেদনকারীর পক্ষ থেকেই স্বামী শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাই তাঁর দাবি আইনত টেকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!