ডেইলি ডোমকল, ব্রাসেলস: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও আচরণে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) গুরুত্বপূর্ণ সাতটি দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে (সমীক্ষা) দেখা গেছে, অর্ধেক ইউরোপীয় নাগরিকই ট্রাম্পকে ‘ইউরোপের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করছেন। শুক্রবার প্রকাশিত এই জরিপের ফলাফল আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্কের অবনতির এক নজিরবিহীন চিত্র তুলে ধরেছে।
জরিপের মূল ফলাফল: শত্রু বনাম মিত্র
ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক এবং পোল্যান্ডের সাত হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর (প্রতি দেশে ১,০০০ জন) এই জরিপ চালানো হয়। ফলাফল অনুযায়ী:
🔹 ৫১ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে ‘ইউরোপের শত্রু’ মনে করেন।
🔹 মাত্র ৮ শতাংশ তাকে ‘ইউরোপের বন্ধু’ হিসেবে দেখেন।
🔹 ৩৯ শতাংশ মনে করেন তিনি বন্ধু বা শত্রু কোনোটিই নন।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যু
গত ১৩ থেকে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ডেনমার্কের নাগরিকরা ট্রাম্পের ওপর সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ। ডেনিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর সে দেশের ৫৮ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও চলতি সপ্তাহে খনিজ সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড জোরপূর্বক দখলের অবস্থান থেকে ট্রাম্প সরে এসেছেন, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে তারা পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সজাগ রয়েছে।
গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্র
ট্রাম্পের শাসনশৈলী নিয়ে ইউরোপীয়দের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, ট্রাম্প একজন ‘স্বৈরশাসকের’ মতো আচরণ করেন। আরও ৪৪ শতাংশ মনে করেন, তার মধ্যে ‘কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা’ রয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করেন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন
ইউরোপের দেশগুলো যখন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ‘রেড লাইন’ নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ট্রাম্পের বৈরী আচরণ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি তাদের আরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। গত বুধবার ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, ইউরোপ ‘সঠিক পথে এগোচ্ছে না’। প্রসঙ্গত, এর আগে ডিসেম্বরে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের এক নথিতে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল— অভিবাসন সমস্যা ইউরোপকে ‘সভ্যতা বিলুপ্তির’ (Civilisational erasure) হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একইসঙ্গে সেখানে ইউরোপের ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে ‘প্রতিরোধ গড়ে তোলার’ আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
