ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সম্বলপুরের মোদিপাড়ার বাসিন্দা বাবু লোহারের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল যখন তাঁর ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী জ্যোতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে তাঁকে কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (SCBMCH) নিয়ে যাওয়া জরুরি। কিন্তু দারিদ্র্যের কষাঘাতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার ক্ষমতা ছিল না বাবুর।
৯ দিনের লড়াই
হাল না ছেড়ে নিজের পুরনো সাইকেল রিকশাটিকেই অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করেন বাবু। স্ত্রীর আরামের জন্য তাতে বিছিয়ে দেন পুরনো কুশন। সম্বলপুর থেকে কটক— এই দীর্ঘ ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে বাবুর সময় লাগে টানা নয় দিন। দিনে রিকশা চালানো আর রাতে রাস্তার ধারের দোকানের সামনে আশ্রয়— এভাবেই অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান তিনি। কটক হাসপাতালে দীর্ঘ দু’মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন জ্যোতি।
ফেরার পথে দুর্ঘটনা
গত ১৯ জানুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন বাবু। কিন্তু ফেরার পথে চৌদ্বারের কাছে একটি গাড়ি তাঁদের রিকশায় ধাক্কা দিলে ফের বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ওই বৃদ্ধা। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
অদম্য সাহস ও মানবিকতা
দুর্ঘটনাও টলাতে পারেনি বাবুর মনোবল। জখম শরীর নিয়ে ফের রিকশার প্যাডেলে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের কেউ নেই, আমরা শুধু একে অপরের ভরসা।” এই বৃদ্ধ দম্পতির লড়াই দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হাসপাতালের চিকিৎসকরাও। চিকিৎসক বিকাশ তাঁদের চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সাহায্যও করেন যাতে তাঁরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধের এই লড়াই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ।
