TOP NEWS

পদ্ম সম্মানে ভূষিত দেশের ‘অখ্যাত নায়ক’রা: বাসের কন্ডাক্টর থেকে আদিবাসী শিল্পী, তালিকায় একঝাঁক প্রতিভা

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা এক প্রাক্তন বাস কন্ডাক্টর, এশিয়ার প্রথম হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক তৈরি করা এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ৯০ বছর বয়সী এক বিলুপ্তপ্রায় বাদ্যযন্ত্র শিল্পী— সাধারণ মানুষের অসাধারণ কৃতিত্বকে কুর্নিশ জানালো ভারত সরকার। রবিবার প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঘোষিত ২০২৬ সালের পদ্মশ্রী তালিকায় ‘অখ্যাত নায়ক’ (Unsung Heroes) বিভাগে স্থান পেয়েছেন এমন ৪৫ জন ব্যক্তিত্ব।

কর্নাটকের মহীশূরের হারলাহাল্লি গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী আঙ্কে গৌড়া একসময় বাস কন্ডাক্টরের কাজ করতেন। আজ তিনি ভারতের অন্যতম পরিচিত গ্রন্থপ্রেমী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘পুস্তক মানে’ লাইব্রেরিতে ২০টি ভাষায় ২০ লক্ষেরও বেশি বই এবং বহু বিরল পাণ্ডুলিপি রয়েছে। জ্ঞান প্রসারে তাঁর এই নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

একইভাবে, মুম্বইয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ আর্মিদা ফার্নান্দেজ এশিয়ার প্রথম হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক স্থাপন করে শিশুদের জীবন রক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তালিকায় আরও রয়েছেন মহারাষ্ট্রের ৯০ বছর বয়সী আদিবাসী শিল্পী ভিকলিয়া লাদাক্যা ধিন্দা, যিনি বাঁশ ও লাউ দিয়ে তৈরি বিরল ‘তারপা’ বাদ্যযন্ত্র বাজানোয় পারদর্শী। জম্মু-কাশ্মীরের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ব্রিজ লাল ভাট এবং বুন্দেলি যুদ্ধকলার প্রশিক্ষক ভগবানদাস রাইকওয়ারও এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

এক নজরে ২০২৬ সালের পদ্ম সম্মাননা তালিকা:

অসাধারণ এবং বিশিষ্ট সেবার জন্য পদ্মবিভূষণ (৫ জন) সম্মান দেওয়া হবে:

১. শ্রী ধর্মেন্দ্র সিং দেওল (মরণোত্তর) – শিল্পকলা
২. শ্রী কে টি থমাস – জনসেবা
৩. মিস এন রাজম – শিল্পকলা
৪. শ্রী পি নারায়ণন – সাহিত্য ও শিক্ষা
৫. শ্রী ভি এস অচ্যুতানন্দন (মরণোত্তর) – জনসেবা

বিশিষ্ট সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মভূষণ (১৩ জন) সম্মান প্রাপকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— অলকা ইয়াগনিক (শিল্পকলা), ভগত সিং কোশিয়ারি (জনসেবা), চলচ্চিত্র অভিনেতা মামুট্টি (শিল্পকলা), উদয় কোটক (বাণিজ্য ও শিল্প), এবং প্রাক্তন টেনিস তারকা বিজয় অমৃতরাজ (ক্রীড়া)।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী (১১৩ জন) সম্মান দেওয়া হবে। তাঁদের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য নাম:

ক্রীড়া: ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা, হরমনপ্রীত কৌর এবং হকি তারকা সবিতা পুনিয়া।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অধ্যাপক ভি কামাকোটি, কুমারস্বামী থাঙ্গারাজ।

শিল্পকলা: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গ), সতীশ শাহ (মরণোত্তর), রত্নাকর রামকৃষ্ণ খেদকর।

সাহিত্য ও শিক্ষা: মামিডালা জগদেশ কুমার, শিবশঙ্করী।

অন্যান্য: প্রত্নতাত্ত্বিক বুদ্ধ রশ্মি মণি এবং আকাশবাণীর রামমূর্তি শ্রীধর।

এবারের তালিকায় বিদেশেরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব স্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন জার্মানির লার্স-ক্রিশ্চিয়ান কোচ এবং রাশিয়ার লিউডমিলা ভিক্টোরোভনা খোখলোভা। সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাদের স্বীকৃতি ভারতের বৈচিত্র্য ও সেবার আদর্শকে আরও একবার সুপ্রতিষ্ঠিত করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!