TOP NEWS

শৌর্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: দিল্লির কর্তব্য পথে ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: দিল্লির কর্তব্য পথে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপিত হলো। এ বছরের কুচকাওয়াজে সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়।

আজকের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের ১০টি প্রধান আকর্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে (National War Memorial) পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধান অতিথি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন প্রথাগত বগিতে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রবীণতম রেজিমেন্ট ‘প্রেসিডেন্টস বডিগার্ড’ তাঁদের এসকর্ট করে নিয়ে আসে।

২. রীতি অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিমি লাইট ফিল্ড গান ব্যবহার করে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে অভিবাদন জানানো হয়। এই অভিবাদন প্রদান করে ১৭২ ফিল্ড রেজিমেন্টের ১৭২১ সেরিমোনিয়াল ব্যাটারি।

৩. ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম কুচকাওয়াজে ‘ফেজড ব্যাটল অ্যারে ফরম্যাট’ বা যুদ্ধ বিন্যাস প্রদর্শিত হয়। এর রেকসি (Recce) এলিমেন্টে ছিল ‘৬১ ক্যাভালরি’। আকাশপথে সহায়তায় ছিল দেশীয় প্রযুক্তির ‘ধ্রুব’ অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (যাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পতাকা ছিল) এবং এর সশস্ত্র সংস্করণ ‘রুদ্র’।

৪. পাকিস্তান-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারতের বিশাল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর থিমটি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ত্রি-পরিষেবা ট্যাবলোতে তুলে ধরা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য ও সরকারি দপ্তরের ট্যাবলো কুচকাওয়াজে অংশ নেয়।

৫. কুচকাওয়াজের অধিনায়কত্ব করেন দিল্লির জেনারেল অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভাবনীশ কুমার। প্যারেড সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন মেজর জেনারেল নবরাজ ধিলোঁ।

৬. কুচকাওয়াজে অংশ নেন দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার বিজয়ীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরমবীর চক্র বিজয়ী সুবেদার মেজর (অনারারি ক্যাপ্টেন) যোগেন্দ্র সিং যাদব (অবসরপ্রাপ্ত) ও সুবেদার মেজর সঞ্জয় কুমার এবং অশোক চক্র বিজয়ী মেজর জেনারেল সি এ পিঠাওয়ালা (অবসরপ্রাপ্ত) ও কর্নেল ডি শ্রীরাম কুমার।

৭. মহাকাশে যাওয়া দ্বিতীয় ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে রাষ্ট্রপতি ‘অশোক চক্র’ সম্মানে ভূষিত করেন।

৮. প্রথমবারের মতো কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) একটি কন্টিনজেন্ট। তিনটি জিপসিতে চড়ে চারজন পতাকাবাহী ইইউ-এর পতাকা, সামরিক কর্মীদের পতাকা এবং ইইউ নেভাল ফোর্সের ‘আটালান্টা’ ও ‘অ্যাসপাইডস’ অভিযানের পতাকা বহন করেন।

৯. রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জাতীয় যুদ্ধ স্মারক পর্যন্ত বিস্তৃত কর্তব্য পথকে ভারতের ঐতিহাসিক যাত্রার প্রতিফলন ঘটিয়ে সাজানো হয়েছিল। পুরো আয়োজনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহ্যের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ দেখা যায়।

১০. ‘বিবিধতা মে একতা’ (বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য) থিমে প্রায় ১০০ জন সাংস্কৃতিক শিল্পী পারফর্ম করেন। এই বিশাল সংগীতময় পরিবেশনা ভারতের ঐক্য এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!