ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বাজেট অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টায় সরব হয়ে কংগ্রেস দাবি করেছে, প্রতিটি অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে তাঁর “চেনা ভণ্ডামিপূর্ণ বার্তা” দেন এবং আজকের বক্তব্যও সেই ধারারই অংশ।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (ইন-চার্জ) জয়রাম রমেশ কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ইস্যুতে বিরোধীদের আস্থা নেওয়ার জন্য কোনো সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন না বা সভাপতিত্ব করেন না। পরিবর্তে, শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করে বিল আনা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংসদীয় যাচাই ছাড়াই সেগুলি সংসদে গায়ের জোরে পাস করিয়ে নেওয়া হয়।” রমেশ আরও অভিযোগ করেন যে, মোদী সংসদে বসে বিরোধী নেতাদের উদ্বেগের জবাব দেন না, বরং সংসদের উভয় কক্ষে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী জনসভার মতো ভাষণ দেন। তাঁর মতে, সংসদকে নেপথ্যে রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে যে বার্তা দেন, তা কেবলই লোকদেখানো।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে প্রথাগত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি এক উচ্চাভিলাষী ভারতের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে করা হয়েছে এবং এর ফলে উন্মুক্ত হওয়া নতুন বাজারগুলি থেকে দেশীয় উৎপাদকদের লাভবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ভাষণে বলেন, দেশ এখন দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা সমস্যাগুলো কাটিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে। এখন সময় কেবল সমাধান খোঁজার, বাধা সৃষ্টি করার নয়। সরকার শুধু ফাইলের কাজে সীমাবদ্ধ নয়, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, “দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকার সবসময়ই মানুষ। আজ আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক ভারত বিশ্বের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।”
