ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভিনরাজ্যে কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার সিলসিলা থামছেই না। এবার উত্তরাখণ্ডে এক ১৭ বছর বয়সী কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাকে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় ওই কিশোরের ভাই সামান্য চোট পেলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন। জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (JKSA) জাতীয় আহ্বায়ক নাসির খুয়াহামি জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডের বিকাশ নগর এলাকায় তাবিশ আহমেদ নামে এক কিশোর এবং তার ভাই শাল বিক্রি করার সময় কিছু দুষ্কৃতীর হামলার শিকার হন।
নাসির খুয়াহামি জানান, “তারা দুজনে একটি স্থানীয় দোকানে চা খাচ্ছিলেন, তখনই এই হামলা হয়। দোকানের মালিক এবং কিছু স্থানীয় লোক মিলে তাদের ওপর চড়াও হয়। তাবিশকে লোহার রড এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।” এই হামলায় তাবিশের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে এবং তার বাঁ হাত ভেঙে গিয়েছে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেরাদুনের দুন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। জানা গেছে, তাবিশের মাথায় ১১টি সেলাই পড়েছে।
নাসির আরও জানান, তাবিশের আত্মীয়দের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে তাদের পরিচয় জানতে চায়। তারা মুসলিম এবং কাশ্মীরি—এই পরিচয় পাওয়ার পরেই উন্মত্ত জনতা তাদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে এবং লোহার রড দিয়ে মারধর শুরু করে। উত্তরাখণ্ডের ডিজিপি-র সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছেন জে-কে-এস-এ (JKSA) আহ্বায়ক। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, এর আগেও হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে কাশ্মীরি ছাত্র ও ব্যবসায়ীরা হেনস্থার শিকার হয়েছেন। বারবার ঘটা এই ধরনের লক্ষ্যভ্রষ্ট হিংসার ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি।
