ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সম্প্রতি ২০২৪ সালের একটি বিশদ তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মার্কিন নেতাদের দেওয়া বিভিন্ন বহুমূল্য উপহারের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রোটোকল অফিসের এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মার্কিন আইন অনুযায়ী ৪৮০ মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের যে কোনও উপহার সরকারি নথিতে নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক। ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া এই উপহারের তালিকায় কেবল শিল্পের ছোঁয়াই নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাও ফুটে উঠেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিকবার উপহার দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জি-২০ সম্মেলনের সময় বিডেনকে একটি কাঠের সিন্দুক (Wood Chest), স্কার্ফ, জাফরানের পাত্র এবং একটি বিশেষ চায়ের বাক্স উপহার দেওয়া হয়। এই উপহার সেটটির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৫৬২ মার্কিন ডলার। তবে নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে জাফরান এবং চায়ের মতো পচনশীল দ্রব্যগুলি নষ্ট করে ফেলা হলেও বাকি জিনিসগুলি মার্কিন জাতীয় আর্কাইভে (NARA) সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এরপর ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মোদী বাইডেনকে একটি রাজকীয় উপহার দেন— একটি ‘স্টার্লিং সিলভার মেটাল ট্রেন সেট’। যার বাজারমূল্য প্রায় ৭,৭৫০ মার্কিন ডলার। এই নিখুঁত কারুকার্যখচিত ট্রেন সেটটিও বর্তমানে জাতীয় আর্কাইভে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের জন্যও উপহার পাঠাতে ভোলেননি মোদী। ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তাঁকে একটি পশমিনা শাল উপহার দেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ২,৯৬৯ মার্কিন ডলার।
প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে গত ১৮ অক্টোবর ২০২৪ সালে মোদী একটি ‘লর্ড কৃষ্ণ রাসলীলা সিলভার বক্স’ উপহার দেন। রূপার এই নকশা করা বাক্সটির মূল্য প্রায় ১,৩৩০ মার্কিন ডলার। একই দিনে কমলা হ্যারিসের স্বামী ডগলাস এমহফ মোদীর কাছ থেকে ৫৯৫.৬৫ ডলার মূল্যের একজোড়া কাফলিঙ্ক উপহার পান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভানকে একটি ‘কাশ্মীর পশমিনা স্কার্ফ’ উপহার দিয়েছেন, যার মূল্য প্রায় ৫৯৯ ডলার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০২২ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিনকে ৩,৭০০ ডলার মূল্যের একটি ‘শিব নটরাজ ব্রোঞ্জ মূর্তি’ উপহার দিয়েছিলেন, যা বর্তমানে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রিপোর্টে একটি বিশেষ অংশের নাম দেওয়া হয়েছে— “উপহার গ্রহণের যৌক্তিকতা”। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই উপহারগুলি গ্রহণ না করলে দাতা দেশ তথা ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারত এবং এটি দাতা দেশের জন্য একটি অমর্যাদাকর বিষয় হয়ে দাঁড়াত। ফলে কূটনৈতিক সৌজন্য রক্ষার্থেই এই উপহারগুলি গ্রহণ করা হয় এবং সরকারি কোষাগারে বা আর্কাইভে জমা দেওয়া হয়। ভারতের এই উপহারগুলি মূলত কাশ্মীরি পশমিনা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের ব্রোঞ্জ শিল্প এবং গুজরাটের রূপার কারুকার্য— সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের “সফট পাওয়ার” বা সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বকেই তুলে ধরেছে।
