ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: প্লাস্টিক দূষণ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অথচ বিপজ্জনক অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষিত জল পান করেন, তাদের শরীরে প্রতি বছর প্রায় ৯০,০০০ অতিরিক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের হারের একটি নতুন তালিকা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ট্যাপের জলের তুলনায় বোতলজাত জলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি অনেক গুণ বেশি। বোতল তৈরির প্রক্রিয়া, পরিবহন এবং দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলো বা তাপের সংস্পর্শে থাকার ফলে প্লাস্টিক ক্ষয় হয়ে জলের সাথে মিশে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন গড়পড়তা মানুষ খাদ্য ও সাধারণ উৎস থেকে বছরে ৩৯,০০০ থেকে ৫২,০০০ কণা গ্রহণ করেন। কিন্তু যারা শুধুমাত্র বোতলজাত জলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ১,৪০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলো রক্তপ্রবাহে মিশে গিয়ে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করা, কোষের প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নতুন এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বয়সের ভিত্তিতে ক্যানসারের হার (Age-standardized cancer incidence rate) নির্ণয় করে দেখা গেছে, উন্নত দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ ১০টি উচ্চ ক্যানসার হারের দেশ:

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে জল পান করার অভ্যাস করা জরুরি। বিশেষ করে একবার ব্যবহারের যোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করা ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করতে পারে। উন্নত দেশগুলোতে উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি নজরে আসলেও, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত দূষণ যে এর মূল চালিকাশক্তি, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
