ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে নিজের দফতরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হলো দেশের অন্যতম আবাসন শিল্প সংস্থা ‘কনফিডেন্ট গ্রুপ’-এর কর্ণধার সি জে রায়ের। শুক্রবার দুপুরে তাঁর দফতরে আয়কর হানা চলাকালীন রায়ের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। বেঙ্গালুরুতে আয়কর হানার চলাকালীন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী তথা ‘কনফিডেন্ট গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান সি জে রায়ের রহস্যজনক মৃত্যুতে তোলপাড় কেরল ও কর্নাটকের রাজনীতি। সি জে রায়ের মৃত্যুকে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে নারাজ কেরলের রাজনৈতিক মহল। আয়কর দফতরের মানসিক চাপের কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে কেরলের শাসক দল সিপিআই(এম) এবং প্রধান বিরোধী জোট ইউডিএফ। তারা অভিযোগ তুলছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই হয়তো এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন সি জে রায়।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন তিরুবনন্তপুরমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন তোলেন, “কেন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি রেইড চলাকালীন আরও মানবিক আচরণ করতে পারে না?” তিনি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পরেও ওই দপ্তরে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে গিয়েছে আয়কর আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা ভি ডি সাথীসান এই ঘটনার পেছনে ‘রহস্য’ দেখছেন। তিনি দাবি করেন, “আয়কর কর্মকর্তাদের হাতে সি জে রায় ঠিক কী ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” রাজ্যসভার সাংসদ এ এ রহিমও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, সি জে রায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘চাপের রাজনীতির’ শিকার কি না, তা তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
সি জে রায়ের ভাই বাবু রায় সরাসরি কেন্দ্রীয় এজেন্সির দিকে আঙুল তুলেছেন। শনিবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, আয়কর আধিকারিকদের প্রচণ্ড চাপই তাঁর ভাইকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় দফতরের ভূমিকা এখন স্ক্যানারের নিচে।
সি জে রায়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলাল। সি জে রায়ের প্রযোজিত একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন এই তারকা অভিনেতা। ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে মোহনলাল লেখেন—”প্রিয় বন্ধু সি জে রায়ের চলে যাওয়াটা অবিশ্বাস্য এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
