ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে দেশের শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে নিজেই নিজের রাজ্যের হয়ে সওয়াল করতে পারেন বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকার বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ে তিনি একজন ‘আইনজীবী’ হিসেবে ময়দানে নামতে পারেন। দেশের বিচারবিভাগের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথমবার কোনো আসীন মুখ্যমন্ত্রীকে আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে আইনজীবীর ভূমিকায় সওয়াল করতে দেখা যেতে পারে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে তার অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ সূত্রের খবর, আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সওয়াল করার অনুমতি চাইতে পারেন। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেশায় একজন নথিভুক্ত আইনজীবী। রাজনৈতিক মহলের মতে, গণতন্ত্র এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার এই লড়াইকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব দিতে চান। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় তিনি প্রয়োজনে নিজেই আদালতে গিয়ে সওয়াল করবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম একতরফাভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি অনুগত আধিকারিকদের ব্যবহার করে বেছে বেছে বিরোধী ভোটব্যাংকে থাবা বসানো হচ্ছে। আগামীকাল দেশের শীর্ষ আদালতে তিনি এই ‘অশুভ আঁতাত’ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার গলদগুলো তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূলের সমর্থক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই ঘটনাকে ‘অ্যাবসলিউট সিনেমা’ বা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাঁদের মতে, ৭১ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে লড়ছেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। সমর্থকদের দাবি, “এটি কেবল মমতার লড়াই নয়, এটি ভারতের গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই।”
ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে পরিকাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই গোটা প্রক্রিয়াটিকেই ‘অবৈধ’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছেন। আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি। মুখ্যমন্ত্রী কি সত্যিই কালো কোট গায়ে জড়িয়ে সওয়াল করবেন, নাকি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের বক্তব্য পেশ করবেন— এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
