ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের লোহারদাগা জেলায় এক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তিন মুসলিম ছাত্রকে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির তাদের সহপাঠী এবং কিছু বহিরাগত যুবকের দিকে। আহত ছাত্রদের মধ্যে আবরার আনসারি নামে এক ছাত্রের রক্তাক্ত অবস্থার ছবি ও ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আহত ছাত্র আবরার আনসারি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, মঙ্গলবার টিফিন খেয়ে ক্লাসরুমে ঢোকার পরেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তাদের। ক্লাসেরই এক ছাত্র হঠাৎ চিৎকার করে বলতে শুরু করে, “মসলমান লোগো কো মারেঙ্গে” (আমরা এই মুসলিমদের মারব)। জানা গিয়েছে, বিপদ আঁচ করতে পেরে আবরার ও তার দুই বন্ধু ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অভিযোগ, ঠিক সেই সময় তাদের জোরপূর্বক টেনে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২০-২৫ জনের একটি দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণকারীরা মূলত ছাত্রদের মাথায় আঘাত করে। আক্রান্ত ছাত্রদের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে। আবরার জানায়, ঘটনার সময় স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। রক্তাক্ত সাদা জামা পরে আবরার ক্ষোভের সঙ্গে বলে, “২০-২৫ জন মিলে আমাদের মারছিল। তাদের মধ্যে আমাদের সহপাঠীরাও ছিল, আবার বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিল। আমাদের শিক্ষকরা সব দেখেও চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।”
সূত্রের খবর, ঘটনার পর আহত ছাত্রদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুল চত্বরের ভেতরে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক স্লোগান এবং হামলার ঘটনায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে বহিরাগতরা স্কুলের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা করার সাহস পেল এবং সেই সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন নীরব ভূমিকা পালন করল। পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। লোহারদাগা জেলা পুলিশ এই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কতজন গ্রেফতার হয়েছে বা মূল উস্কানিদাতার পরিচয় কী, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
