ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে হিন্দি ভাষা এবং উত্তর ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী এমআরকে পান্নিরসেলভাম। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ডিএমকে-র ‘হিন্দি আগ্রাসন’ বিরোধী অবস্থান এবং উত্তর বনাম দক্ষিণ ভারতের বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বুধবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পান্নিরসেলভাম তামিলনাড়ুর ‘দ্বি-ভাষা’ (তামিল ও ইংরেজি) নীতির গুণগান করেন। তিনি দাবি করেন, তামিলনাড়ুর মানুষ ইংরেজি শেখার সুবাদে আজ আমেরিকা বা লন্ডনে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ভারতীয়দের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “উত্তর ভারতের মানুষ শুধুমাত্র হিন্দি শেখার কারণে কাজের সুযোগ হারিয়ে আমাদের রাজ্যে টেবিল পরিষ্কার করতে বা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে আসছেন। তাঁরা এখানে এসে পানি পুরি বিক্রি করছেন।” তাঁর মতে, হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ত্রি-ভাষা নীতি অনুসরণের ফলে সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
মন্ত্রীর এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই অস্বস্তিতে পড়ে শাসক দল ডিএমকে। তড়িঘড়ি দলের পক্ষ থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু করা হয়। দলের মুখপাত্র সৈয়দ হাফিজুল্লাহ জানান, দল কোনো আইনি পেশাকেই ছোট করে দেখে না এবং হিন্দিভাষীদের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো ক্ষোভ নেই। তবে তিনি মন্ত্রীর মন্তব্যকে ঘুরিয়ে কেন্দ্রের ‘ত্রি-ভাষা’ নীতির সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ইংরেজি তামিলনাড়ুর মানুষকে বিশ্বজুড়ে সুযোগ করে দিয়েছে, যা হিন্দিভাষী রাজ্যগুলো পায়নি।”
ডিএমকে সাংসদ টি আর বালু দাবি করেছেন, মন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। পান্নিরসেলভাম একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী এবং তিনি উত্তর ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি বলেই তাঁর দাবি।
তামিলনাড়ুতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ‘হিন্দি বনাম ইংরেজি’ বিতর্ককে হাতিয়ার করে ডিএমকে তাদের আঞ্চলিক আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে মন্ত্রীর এমন ‘অমার্জিত’ মন্তব্য বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
