ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারের ‘সহযোগ’ (Sahyog) পোর্টালের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কোনো তথ্য বা কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার ক্ষমতাকে “অসাংবিধানিক” এবং বাকস্বাধীনতার ওপর “অযৌক্তিক আক্রমণ” বলে আখ্যা দিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। বুধবার দায়ের করা আবেদনে কামরা মূলত অক্টোবরে সংশোধিত আইটি রুলস (তথ্য প্রযুক্তি আইন) এবং উক্ত পোর্টালটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
কমেডিয়ানের অভিযোগ, এই সরঞ্জামগুলি কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তড়িঘড়ি কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার বা ব্লক করার ক্ষমতা দিচ্ছে। কামরার আইনজীবী মিনাজ কাকালিয়ার মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, “আইটি রুলসের ৩(১)(ডি) ধারা এবং ‘সহযোগ’ পোর্টাল বাহ্যিকভাবেই অসাংবিধানিক। কারণ এগুলি অস্পষ্ট গ্রাউন্ডে ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মে তথ্য ব্লক বা সরিয়ে ফেলার সুযোগ দেয়।” আবেদনে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই ধরণের ক্ষমতা ভারতের সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বাকস্বাধীনতার ওপর অনুমোদিত সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
সরকারের দাবি, ‘সহযোগ’ পোর্টালটি আইটি আইন, ২০০০-এর অধীনে অনৈতিক কাজের জন্য ব্যবহৃত তথ্য সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে। এই পোর্টালের লক্ষ্য হল অনুমোদিত এজেন্সি এবং ইন্টারমিডিয়েটদের (যেমন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম) একই প্ল্যাটফর্মে এনে দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
কুণাল কামরার আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার ফলে ইন্টারনেটের সমস্ত তথ্য নির্বিচারে সরিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে পড়বে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে হাজার হাজার সরকারি আধিকারিক লাগামহীন ক্ষমতা পেয়ে যাবেন। আগামী দিনে বম্বে হাইকোর্টে এই আবেদনের শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
