ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ওমানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অনুষ্ঠিত “ভালো আলোচনার” পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য “মরিয়া” হয়ে আছে। শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান আলোচনায় চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের অত্যন্ত “কঠোর পরিণতির” মুখোমুখি হতে হবে।
“পারমাণবিক অস্ত্র চলবে না”
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।” ট্রাম্প দাবি করেন, দেড় বা এক বছর আগের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি ছাড় দিতে বা চুক্তি করতে প্রস্তুত।
সামরিক বহরের হুঁশিয়ারি
আলোচনা চলার মধ্যেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের একটি বড় যুদ্ধজাহাজের বহর ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই সেখানে পৌঁছাবে।” তিনি এই সামরিক উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কীভাবে পরিস্থিতির সমাধান হয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও পরোক্ষ আলোচনা
শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনাকে একটি “ভালো সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে অবিশ্বাসের পরিবেশ দূর করার ওপর। তিনি আরও জানান, আগামীতে মাসকাট বা অন্য কোনো স্থানে আবারও বৈঠক হতে পারে।
ওমানের বিদেশমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি আলোচনাকে “খুবই গুরুতর” বলে বর্ণনা করেছেন, যা উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো সনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারির মাঝে ওমানের এই দূতিয়ালি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও, চূড়ান্ত চুক্তির পথ এখনও অনেক দীর্ঘ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
