TOP NEWS

বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় শৈশব: দেশে ২.২৪ লক্ষ পকসো মামলা ঝুলে, দিল্লিতে একটি ট্রায়ালে সময় লাগে সাড়ে ৪ বছর

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কঠোর আইন এবং বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা থাকলেও দেশে শিশু যৌন নিগ্রহ মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে শম্বুক গতিতে। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বুধবার রাজ্যসভায় সাংসদ এস নিরঞ্জন রেড্ডির এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ২,২৪,৫৭২টি পকসো মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তির হারের দিক থেকে দেশের রাজধানী দিল্লির অবস্থা সবথেকে শোচনীয়। দিল্লিতে একটি পকসো মামলার বিচার শেষ হতে গড়ে প্রায় সাড়ে চার বছর সময় লাগছে। এর পরেই রয়েছে ত্রিপুরা (৪ বছর), মণিপুর (৩.৭ বছর) এবং গুজরাট (৩.৫ বছর)। পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে আড়াই বছরের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। বিপরীত দিকে, পুদুচেরি সবথেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করছে, যেখানে গড়ে মাত্র ছয় মাসে মামলা নিষ্পত্তি হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে এই সময়সীমা ২৫৭ দিন এবং ছত্তিশগড়ে প্রায় ৩৩২ দিন।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিশুদের দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে বর্তমানে ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৭৭৪টি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (FTSC) কাজ করছে। এর মধ্যে ৩৯৮টি আদালত শুধুমাত্র পকসো মামলার জন্যই উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই ঝাড়খণ্ড এই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে গিয়েছে, যার ফলে সেখানে এই ধরণের মামলার বিচার ব্যবস্থার পরিকাঠামো বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এবং শিশুদের জন্য আদালতকে বন্ধুত্বপূর্ণ করে তুলতে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আদালত চত্বরে শিশুদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বিশেষ কেন্দ্র ভালনারেবল উইটনেস ডিপোজিশন সেন্টার (VWDC) তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির মাধ্যমে ১০,০০০-এর বেশি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নতুন কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি অনুমোদন করা হয়েছে।

বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্য বিচারক ও আদালতের কর্মী নিয়োগের অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সংবিধানের ২৩৩ এবং ২৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারক, সরকারি কৌঁসুলি এবং আদালতের কর্মী নিয়োগের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং হাইকোর্টগুলির। বিপুল সংখ্যক মামলার বকেয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা ট্রায়াল দেশের শিশু সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!