নিজস্ব সংবাদদাতা, ইসলামপুর: বহু প্রতীক্ষিত পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকাতেও ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রোজা পালন শুরু করেছেন। সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানের সঙ্গে ইফতার, আর রাতে এশার নামাজ ও তারাবির মাধ্যমে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্র। রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুর, ফলমূল ও শরবত। তবে এ বছর রোজা শুরু হতেই ফলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাজার পরিদর্শনে নামে ইসলামপুর থানার পুলিশ। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও ফলমূলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সম্ভাব্য কালোবাজারি রুখতে অভিযান চালান থানার আধিকারিক দেবাশিস দাস। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ইসলামপুর, ডোমকল, জলঙ্গি ও রানিনগর—এই চার এলাকায় এদিন এক কেজি শশার দাম উঠেছে ১০০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩০–৪০ টাকার মধ্যে। আঙুরের দাম কেজিপ্রতি ৪০–৫০ টাকা বেড়ে ২০০–২২০ টাকায় পৌঁছেছে। কলা বিক্রি হয়েছে ৬০–৮০ টাকা কেজি দরে। খেজুরের দাম কেজিতে ৪০–৫০ টাকা বেড়ে গেছে; ভালো মানের ৪০০ গ্রাম খেজুরের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২৩০–২৫০ টাকায়। এছাড়া কিসমিসের দাম বেড়ে ৪৫০–৪৬০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের রমজানে ছিল ২০০–২৪০ টাকার মধ্যে। পাতিলেবু প্রতিটি ৫–৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রমজানে জনপ্রিয় ঘুগনির উপকরণ কাবলি ছোলার দাম ১৬০–২০০ টাকা কেজি, মটরেও একইভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। মাঝারি মানের ১ লিটার সর্ষের তেলের দাম পৌঁছেছে ১৯০–১৯৫ টাকায়।
এক রোজদার ইবাদত শেখ জানান, রোজা শুরু হতেই ছোলা, ডাল, সুজি, মুড়ি-সহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে কার্যত কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। চাহিদার সময় সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন, আর তার বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—প্রতি বছর রমজান এলেই কেন এমন মূল্যবৃদ্ধি ঘটে? কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা কোথায়? এই প্রশ্নই উঠছে।
