TOP NEWS

অসমাপ্ত বক্সীপুর ব্রীজ মামলা: রাজ্যের অবস্থানে প্রশ্ন, রিপোর্ট তলব প্রধান বিচারপতির

(বক্সীপুর ব্রীজ ও কলকাতা হাইকোর্ট। || নিজস্ব চিত্র।)

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও নদিয়ার করিমপুরের মধ্যে সংযোগকারী বহু প্রতীক্ষিত বক্সীপুর ব্রীজের দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত অবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বছরের পর বছর ধরে কাজ থমকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।

ডোমকলের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান আনসারীর দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বক্সীপুর ব্রীজের নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এবং দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিন শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০১৭ সালেই সরকার এই ব্রীজের প্রকল্পকে ‘পরিত্যক্ত’ বা (Abandoned) ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি বাতিল বলে জানানো হয় আদালতে। তবে এই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতে নতুন তথ্য পেশ করা হয়। রবিউল ইসলাম আদালতে জানান, “আমরা প্রধান বিচারপতির সামনে প্রমাণসহ দেখাই যে ২০২২ সালে এই একই ব্রীজের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য জেলা পরিষদ থেকে নতুন করে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ফলে ২০১৭ সালে প্রকল্প পরিত্যক্ত ঘোষণার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।”

এই তথ্য আদালতে পেশ হওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজ্য সরকারের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে হলফনামা আকারে বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ব্রীজের বর্তমান অবস্থা, অতীত সিদ্ধান্ত, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ হলফনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পাঁচ সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম ‘ডেইলি ডোমকল’-কে জানান, “বক্সীপুর ব্রিজ মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংযোগস্থল। অথচ ব্রীজটি প্রায় অসমাপ্ত অবস্থায় বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকার মানুষ মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন। সেই কারণেই আমরা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছি।”

এদিকে স্থানীয় মহলে এই মামলার শুনানি ঘিরে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই ব্রীজের নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে ডোমকল, করিমপুর, জলঙ্গি ও পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। বর্তমানে নদী পারাপারে ঘুরপথ বা অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হওয়ায় সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ছে।

সমাজকর্মীদের মতে, বক্সীপুর সেতু সম্পূর্ণ হলে দুই জেলার মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। বিশেষত কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় দ্রুততা আসবে। এখন নজর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের হলফনামার দিকে। বহু প্রতীক্ষিত বক্সীপুর সেতুর ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আসন্ন শুনানির উপরই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!