TOP NEWS

রাজস্থানে গো-রক্ষকদের তাণ্ডব: পাচারকারী সন্দেহে মুসলিম যুবককে গুলি করে খুন!

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানের ভিওয়াদিতে সোমবার ভোরে কথিত গরু পাচারকারী ও গো-রক্ষক দলের সদস্যদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আমির (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সংঘর্ষের সময় পাথর ছোড়াছুড়িতে গুরুতর আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ভিওয়াদির ডিএসপি কৈলাস চৌধুরী জানান, সোমবার ভোর ৫টা নাগাদ চৌপাঙ্কি থানায় খবর আসে যে, গবাদি পশু বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান টাপুুকড়া থেকে তাওয়াদুর দিকে যাচ্ছে এবং কিছু লোক সেটিকে তাড়া করছে। সারে কালা গ্রামের কাছে দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের দাবি, সেই সময় দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক পাথর বৃষ্টি শুরু করে।

নিহত আমির হরিয়ানার নুহ মেওয়াতের উতাওয়াদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবার পাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। আমিরের মামা ইয়াহিয়া খানের দাবি, আমির পেশায় একজন চালক এবং একটি গাড়ি নিতে সারে কালা গ্রামে এসেছিলেন। তিনি রাস্তার ধারে বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখনই একটি গবাদি পশু বোঝাই গাড়ি সেখান দিয়ে যায়। গো-রক্ষক দলের সদস্যরা ভুলবশত আমিরকে পাচারকারী ভেবে আক্রমণ করে। অভিযোগ করা হয়েছে, ১৫-২০ জন সশস্ত্র লোক তিনটি গাড়িতে এসে ৫-৬ রাউন্ড গুলি চালায়, যার মধ্যে একটি আমিরের চোখের নিচে লাগে।

বিপরীতে ডিএসপি কৈলাস চৌধুরী জানিয়েছেন, ৫-৬ জন লোক ওই এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে কথিত পাচারকারীদের সাহায্য করতে এসেছিল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আমির সেই ভ্যানেই ছিলেন এবং সেখানে প্রচুর পাথর মজুত ছিল। পাথর ছোড়াছুড়ির সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী ও নিহতের আত্মীয়রা চৌপাঙ্কি থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বজরং দল সদস্যদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রাজস্থানে গো-রক্ষার নামে হিংসার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালে আলওয়ারে পহেলু খান এবং ২০১৮ সালে রাকবর খান খুনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আমিরের এই মৃত্যু সেই বিতর্ককে পুনরায় উস্কে দিল। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে যে আমিরের মৃত্যু গুলির আঘাতে হয়েছে নাকি পাথরের আঘাতে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে কিন্তু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!