TOP NEWS

ঘাতক ঘরের লোকই! সাগরপাড়ার সাহিন খুনে গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাগরপাড়া: মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়ার মেধাবী ছাত্র সাহিন মন্ডল হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। বাইরের কেউ নয়, বরং পরিবারের সদস্যই এই নৃশংস খুনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি পুলিশের। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ সাহিনের আপন চাচাতো ভাই বাপি মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে। এদিন ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল সাগরপাড়ার খয়রামারি পাঁজরাপাড়ার দশম শ্রেণির ছাত্র সাহিন মন্ডল (১৬)। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ চালালেও তার কোনো হদিস মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের একটি পেঁয়াজ খেতে সাহিনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার গলা কাটা ছিল। এই দৃশ্য দেখে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাগরপাড়া থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ বহিরাগত কোনো শত্রুতার কথা ভাবলেও, ধীরে ধীরে সন্দেহের তীর ঘোরে পরিবারের দিকে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক খুনের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশ করছিল। শুধু তাই নয়, তদন্ত বিপথে চালিত করতে পুলিশকে বারবার ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত। কিন্তু তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও সন্দেহজনক গতিবিধি গোয়েন্দাদের নজর এড়ায়নি। পুলিশ বাপি মন্ডলকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও খুনের প্রকৃত কারণ বা মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ এখনো খোলসা করে কিছু জানায়নি। তবে পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কিছু— তা খতিয়ে দেখতে বাপিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বাপির কথাবার্তায় অনেক অসঙ্গতি ছিল। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অপরাধ ধামাচাপা দিতে সে আগাগোড়া সক্রিয় ছিল। ১০ দিনের হেফাজতে আমরা ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!