ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে দেশে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লীতে এনডিএ-র এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দেন। একইসঙ্গে রাজ্যের শাসক দল ডিএমকে-র বিরুদ্ধে ‘পরিবারতন্ত্র’ ও ‘বৈজ্ঞানিক দুর্নীতির’ অভিযোগে সরব হন তিনি।
আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতেও, বিশেষ করে হোটেল শিল্পের জন্য ব্যবহৃত বাণিজ্যিক এলপিজি-র জোগানে টান পড়েছে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন করছি, আপনারা শুধুমাত্র সঠিক ও যাচাই করা তথ্য প্রচার করুন। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের সরকার সর্বদা ভারতের স্বার্থকে সবার উপরে রাখে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে দেশ হিসেবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করব।”
এদিন তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে-র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মোদী বলেন, ২০২১ সালে মানুষ যে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, ডিএমকে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডিএমকে-র শাসন মানেই একটি পরিবারের শাসন। তাঁর কথায়, “রাজ্যের সমস্ত দুর্নীতির টাকা একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সিন্দুকেই জমা হচ্ছে। ডিএমকে তাদের ‘বৈজ্ঞানিক দুর্নীতি মডেল’-এর জন্য কুখ্যাত। আজ তামিলনাড়ুকে ওই একটি পরিবারের এটিএম (ATM) বানিয়ে ফেলা হয়েছে।” চাকরির বিনিময়ে নগদ (Cash for Jobs) কেলেঙ্কারি নিয়ে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি করে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তামিলনাড়ুর প্রতি কেন্দ্রের বিশেষ অনুরাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদুরাই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক তকমা দেওয়া এবং তিরুচিরাপল্লীতে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর ভূমিপুত্র সি. পি. রাধাকৃষ্ণন উপ-রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তিনি গর্ব প্রকাশ করেন। মোদীর দাবি, তামিলনাড়ুর মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে এবং এনডিএ-ই সেই পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিনের এই মেগা র্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এআইএডিএমকে (AIADMK) প্রধান এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী, বিজেপি রাজ্য সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রন, এএমএমকে (AMMK) প্রতিষ্ঠাতা টিটিভি দিনাকরণ এবং পিএমকে (PMK) নেতা ড. আনবুমণি রামাদস। আগামী নির্বাচনে এনডিএ জোটের সংহতি প্রদর্শনেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
