নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: মোটরসাইকেলের দু’পাশে ঝোলানো লোহার ফ্রেম। মাঝেমধ্যেই গ্রাম্য পথে ভেসে আসছে হাঁক— “খাটলি লিবে গো? রাজস্থানী খাটলি!” শীতের দুপুরে ডোমকলের গ্রামগুলোতে এখন এমনই ছবি দেখা যাচ্ছে। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা একদল যুবক অভিনব উপায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৈরি করে দিচ্ছেন আরামদায়ক ‘খাটলি’ বা খাটিয়া। স্বল্প খরচ ও আরামদায়ক হওয়ার কারণে গ্রামীণ জনপদে এই ব্যবসার চাহিদা এখন তুঙ্গে।
ডোমকলের অজগাঁয়ের মতো গ্রামগুলোতে এখন রাজস্থানী কায়দায় তৈরি এই খাটিয়া বা চারপায়ার কদর বেড়েছে। এই যুবকরা ট্রাকভর্তি করে লোহার ফ্রেম ও রঙিন দড়ি বা ফিতে স্থানীয় একটি গোডাউনে মজুত করেছেন। সেখান থেকে মোটর সাইকেলে ফ্রেম বেঁধে তাঁরা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অর্ডার মিললেই বাড়ির উঠোনে বা রাস্তার পাশে মিনিট কুড়ির মধ্যেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে আস্ত একখানা বিছানা। ১১০০ থেকে ১২০০ টাকার বিনিময়ে এই হাতে বোনা খাটিয়া পেয়ে খুশি স্থানীয়রাও।
উত্তর ও পশ্চিম ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও মুর্শিদাবাদের গ্রামীণ এলাকায় এই চারপায়ার চল নতুন। এর জনপ্রিয়তার কয়েকটি কারণ রয়েছে- কাঠের খাট বা আধুনিক আসবাবের তুলনায় দাম অনেক কম। খোলা আকাশের নিচে থাকলেও সহজে নষ্ট হয় না। দড়ির বুননে বাতাস চলাচল করতে পারে বলে গরমের দিনে বেশ আরামদায়ক। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, শক্ত বুনোটের খাটিয়ায় শুলে কোমর ও পিঠের ব্যথা উপশমেও কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়। ওজন হালকা হওয়ায় চাষের জমি, উঠোন বা বারান্দায় সহজেই সরিয়ে নেওয়া যায়।
মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা রাজেশ সিং, যিনি এই দলের একজন কর্মী, জানালেন, ব্যবসার পরিস্থিতি বেশ আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ আমাদের খুব ভালো ব্যবহার করছে। অনেক সময় পাড়ার একজন খাটিয়া বানালে, তাকে দেখে আরও অনেকে অর্ডার দিয়ে দিচ্ছেন।” তাঁরা সবাই একজন ‘শেঠ’-এর অধীনে কাজ করেন এবং এই কাজে আয়ও বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বাইরে থেকে আসা এই যুবকদের ব্যবসার এই অভিনব পদ্ধতিটি আমাদের এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে। হাতের কাজের গুণমান ও খাটিয়ার আরামদায়ক বুননের জন্য চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।” গ্রামীণ অর্থনীতির ধারায় এই অস্থায়ী ব্যবসার মরশুমী জোয়ার প্রমাণ করে, আধুনিক আসবাবের বাজারেও আজও ঐতিহ্যের চারপায়ার আবেদন অমলিন।
