TOP NEWS

ইরানে সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি: বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের পথে স্টারমার সরকার

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে এবং হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অঞ্চলের সামষ্টিক আত্মরক্ষার স্বার্থে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের যে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রয়েছে, তার আওতায় এখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে আক্রমণকারী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলো লক্ষ্য করে রক্ষণাত্মক অভিযান চালানো যাবে।”

তবে ব্রিটিশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে, সংঘাতের বিষয়ে তাদের মূলনীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে উত্তেজনা হ্রাস এবং যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। ব্রিটিশ পতাকাবাহী (Red Ensign) এবং মিত্র দেশগুলোর জাহাজে ইরানের “বেপরোয়া” হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। তাদের মতে, এই হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উচ্চমাত্রার অভিযানের শুরুতে যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটি এখন লজিস্টিক এবং সামরিকভাবে এই অভিযানে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে “মাদার অফ অল ইউ-টার্ন” (সবচেয়ে বড় নীতি পরিবর্তন) বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অবশ্য দাবি করেছেন, “আমরা নিজেদের এবং মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেও সরাসরি বৃহত্তর যুদ্ধে জড়াব না।” তবে বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ তাদের নিরপেক্ষ থাকার দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১,৩০০ জন নিহতের ঘটনার পর থেকে ইরান প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের ২০% তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!