TOP NEWS

ফুরিয়ে গেছে জীবনের ৮টি মূল্যবান বছর! অবশেষে সন্ত্রাসী মামলায় বেকসুর খালাস জামশেদ ও পারভেজ

(Representation Image)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ আট বছর কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন জঙ্গি সংগঠন আইসিস-এর (ISIS) সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কাশ্মীরি যুবক। বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থা তাদের দাবির সপক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৮ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সোপিয়ানের বাসিন্দা জামশেদ জহুর পাল এবং পারভেজ রশিদ লোনকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। অভিযোগ ছিল, তারা আইসিস-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ইসলামিক স্টেট জম্মু ও কাশ্মীর’ (ISJK) মডিউলের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। সেই সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল ও ১০টি কার্তুজ উদ্ধারের দাবিও করা হয়েছিল। কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ (UAPA) এবং অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।

অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত বানসাল তাঁর ৭৯ পাতার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, প্রসিকিউশন ‘সন্দেহাতীতভাবে’ দোষ প্রমাণ করতে পারেনি। খালাসের পেছনে আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলো ছিল-

ইলেকট্রনিক প্রমাণে কারচুপি: অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার করা চারটি মোবাইল ফোন প্রায় দুই মাস তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে খোলা অবস্থায় ছিল। ফরেনসিক পরীক্ষার আগে এই দীর্ঘ সময় ফোনগুলো কেন সিল করা হয়নি, তার কোনো সদুত্তর পুলিশ দিতে পারেনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এর ফলে ডিজিটাল তথ্য বা চ্যাট রেকর্ড পরিবর্তনের জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়।

সাক্ষীর অভাব: পুলিশ দাবি করেছিল, রাত পৌনে ১১টায় লাল কেল্লার কাছে একটি ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড থেকে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। কিন্তু এত জনাকীর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কোনো সাধারণ মানুষকে (independent witness) সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়নি। আদালত একে তদন্তের একটি বড় খামতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

যোগাযোগের প্রমাণহীনতা: অভিযুক্তরা বিবিএম (BBM) অ্যাপের মাধ্যমে জঙ্গি হ্যান্ডলারদের সাথে কথা বলতেন বলে দাবি করা হলেও, সেই চ্যাটের স্ক্রিনশটগুলো আইনিভাবে গ্রাহ্য হওয়ার মতো ছিল না।

বিচারক তাঁর রায়ে বলেন, “প্রসিকিউশন এটি প্রমাণ করতেও ব্যর্থ হয়েছে যে অভিযুক্তরা আইসিস-এর সদস্য ছিলেন কিংবা কোনো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন।” তদন্তের প্রতিটি ধাপে প্রমাণের অভাব থাকায় আদালত দুজনকে সসম্মানে খালাস দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই রায় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্ব এবং ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্তদের জীবনের আটটি মূল্যবান বছর কারাগারে কাটানোর পর এই খালাস পাওয়া মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!