ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সংরক্ষিত শ্রেণির কোনো প্রার্থী যদি প্রাথমিক পরীক্ষায় (Qualifying Exam) নম্বরে ছাড় পান, তবুও চূড়ান্ত মেধা তালিকায় বেশি নম্বর পেলে তিনি সাধারণ বা ‘ওপেন ক্যাটাগরি’র আসনের জন্য বিবেচিত হবেন। সোমবার (২৩ মার্চ) একটি মামলার শুনানিতে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে কয়েক হাজার মেধাবী প্রার্থীর চাকরির পথ প্রশস্ত হলো।
বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি আলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ বম্বে হাইকোর্টের আউরাঙ্গাবাদ বেঞ্চের আগের একটি রায়কে খারিজ করে দিয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, প্রাথমিক পরীক্ষায় (TET) যারা সংরক্ষিত হিসেবে ছাড় নিয়েছেন, তারা পরে সাধারণ শ্রেণির আসনে যেতে পারবেন না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি নিয়োগের নিয়মে কোনো সরাসরি বাধা না থাকে, তবে মেধাবী প্রার্থীদের এভাবে আটকে রাখা ‘অযৌক্তিক’।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার (TET এবং TAIT)। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক পরীক্ষা (TET): সাধারণ প্রার্থীদের জন্য পাশের নম্বর ছিল ৬০%, কিন্তু সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য ৫% ছাড় দিয়ে তা ৫৫% করা হয়েছিল। চূড়ান্ত পরীক্ষা (TAIT): এই পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি হয়। বেশ কিছু সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থী ৫৫% নম্বর নিয়ে TET পাশ করলেও, চূড়ান্ত পরীক্ষায় (TAIT) তাঁরা সাধারণ শ্রেণির শেষ নির্বাচিত প্রার্থীর চেয়েও অনেক বেশি নম্বর পান। তা সত্ত্বেও তাঁদের ‘ওপেন ক্যাটাগরি’তে জায়গা দেওয়া হয়নি।
বিচারপতি আলোক আরাধে তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, “যোগ্যতামান বা পাশ নম্বরে ছাড় দেওয়া কেবল পরীক্ষায় বসার যোগ্যতাকে (Eligibility) প্রভাবিত করে, প্রার্থীর মেধাকে (Merit) নয়। যদি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তবে বেশি মেধাবী প্রার্থীকে সাধারণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাধা নেই।” আদালত আরও জানিয়েছে, ২০১৩ সালের সরকারি রেজোলিউশন অনুযায়ী মহারাষ্ট্র সরকার সংরক্ষিত প্রার্থীদের সাধারণ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের (Migration) ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তাই অধিক নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সাধারণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এই রায়ের ফলে পরিষ্কার হয়ে গেল, সংরক্ষিত কোটা আসলে একটি ‘ন্যূনতম সুরক্ষাকবচ’। যদি কোনো প্রার্থী নিজের যোগ্যতায় সাধারণ প্রার্থীদের ছাপিয়ে যান, তবে তাঁকে সাধারণ হিসেবেই গণ্য করতে হবে। এতে সাধারণ শ্রেণির আসন সংখ্যা না কমলেও মেধাবীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগের মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে এই রায় এক বড় নজির হয়ে থাকল।
