ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মাত্র ৫০ হাজার টাকার পাওনাগণ্ডা নিয়ে বচসা, আর তাতেই ফাঁস হয়ে গেল কয়েক কোটি টাকার এক আন্তর্জাতিক অঙ্গ পাচার চক্র। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজন চিকিৎসকসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি ইতিমধ্যেই অন্তত ৪০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিকের দেহে অবৈধভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে।
পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিহারের সমস্তিপুরের এক এমবিএ ছাত্র আয়ুষ। মিরাটে পাঠরত আয়ুষ আর্থিক অনটনের কারণে নিজের একটি কিডনি ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করার চুক্তি করেছিলেন পাচারকারীদের সঙ্গে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তাকে দেওয়া হয় ৯.৫ লক্ষ টাকা। চুক্তির চেয়ে ৫০ হাজার টাকা কম পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আয়ুষ সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন। তার এই একটি ফোন কলেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এই বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের জাল দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা এমনকি নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত। চক্রটির কার্যপ্রণালী ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। শিবম আগরওয়াল নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালক টেলিগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আর্থিক অনটনে থাকা যুবকদের টার্গেট করত। দাতার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকায় কিডনি কিনে গ্রহীতার কাছ থেকে নেওয়া হতো প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। যেমন, মুজফফরনগরের পারুল তোমর নামে এক রোগীর পরিবারের কাছ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কল্যানপুর এলাকার আহুজা হাসপাতাল, প্রিয়া হাসপাতাল এবং মেড লাইফ হাসপাতালে গোপনে চলত এই অবৈধ অস্ত্রোপচার।
সোমবার গভীর রাতে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর যৌথভাবে তিন হাসপাতালে হানা দেয়। অভিযানে দেখা যায়, ‘মেড লাইফ’ হাসপাতালটি কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছিল। সেখান থেকেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আয়ুষ এবং রোগী পারুল তোমরকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ডাঃ সুরজিৎ সিং আহুজা (আহুজা হাসপাতালের মালিক), ডাঃ প্রীতি আহুজা, ডাঃ রাজেশ কুমার, ডাঃ রাম প্রকাশ, ডাঃ নরেন্দ্র সিং ও শিবম আগরওয়াল (অ্যাম্বুলেন্স চালক)।
পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, এই চক্রের অন্যতম পাণ্ডা ডাঃ আফজাল, ডাঃ রোহিত এবং বৈভব অনুরাগসহ আরও চারজন চিকিৎসক পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ‘মেড লাইফ’ হাসপাতালটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১.৭৫ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ জীবনদায়ী ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হরি দত্ত নেমি জানিয়েছেন, আহুজা ও প্রিয়া হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন, ১৯৯৪ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।
