ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিরোধী দলগুলির প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বুধবার তিনি স্পষ্ট জানান, একটি ‘স্বচ্ছ’ ও ‘নির্ভুল’ ভোটার তালিকাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মূল ভিত্তি।
এদিন দিল্লিতে নির্বাচন পরিচালনকারী সংস্থাগুলোর এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। সেখানে তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন যে, গত বছর বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়া নিয়ে একটিও অভিযোগ জমা পড়েনি। এমনকি বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফায় প্রায় এক লক্ষ পোলিং স্টেশনের কোথাও একটিও পুনর্নির্বাচন (Repoll) করার প্রয়োজন হয়নি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আইন মেনে প্রতিটি যোগ্য ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এই তালিকার ভিত্তিতেই পরবর্তী সমস্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরালাসহ দেশের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। অসমেও আলাদাভাবে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ সংশোধন’ চলছে। ভোটার তালিকায় এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, এটি ভোটের হিসাব পাল্টে দেওয়ার একটি কৌশল। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, কড়া জন-নজরদারির মধ্যেই বিহারের মতো অন্যান্য রাজ্যেও এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ভোটারের জন্মস্থান যাচাই করে অবৈধ বিদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা অভিযানের আবহে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গণতন্ত্র ও নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (IICDEM-2026) প্রায় ৭০টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। দেশে আয়োজিত এই ধরনের কর্মসূচির মধ্যে এটিই এ যাবৎকালের বৃহত্তম সম্মেলন।
