TOP NEWS

হরিয়ানায় ১০ কন্যার পর অবশেষে পুত্রসন্তানের জন্ম, ‘দিলখুশ’ নাম রাখল দিদিরাই

(Representational Image || Image Credit: AI)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: হরিয়ানায় এক ৩৭ বছর বয়সি মহিলা টানা ১০টি কন্যাসন্তানের পর এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই ঘটনা আবারও দেশের কিছু অংশে মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং পুত্রসন্তান পছন্দের সামাজিক মানসিকতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। জিন্দ জেলার উচানা শহরের ওজাস হাসপাতাল অ্যান্ড ম্যাটার্নিটি হোমে ওই মহিলা তাঁর একাদশ সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসক নারবীর শেওরান জানিয়েছেন, প্রসবটি ছিল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ (হাই রিস্ক) এবং মাকে তিন ইউনিট রক্ত দিতে হয়েছে। তবে বর্তমানে মা ও নবজাতক—দু’জনেই স্থিতিশীল রয়েছেন। ডা. শেওরানের কথায়, “প্রসবটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু মা ও শিশুর অবস্থা এখন ভালো।”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি ওই মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরদিন তিনি সন্তানের জন্ম দেন। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি পার্শ্ববর্তী ফতেহাবাদ জেলার নিজের গ্রামে ফিরে যান। নবজাতকের বাবা, ৩৮ বছর বয়সি দিনমজুর সঞ্জয় কুমার জানান, যে তিনি এবং তাঁর কয়েকজন বড় মেয়েও পুত্রসন্তান কামনা করেছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর বেশিরভাগ কন্যাসন্তান বর্তমানে স্কুলে পড়ছে, এবং বড় মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সীমিত আয়ের মধ্যেও তিনি সব সন্তানকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করছেন।

সঞ্জয় বলেন, “আমরা একটি ছেলের আশা করছিলাম, আর আমার কিছু বড় মেয়েও ভাই চাইছিল। এটাই আমার একাদশ সন্তান, এর আগে আমার ১০টি মেয়ে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “স্বল্প আয়ের মধ্যেও আমি আমার মেয়েদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যা হয়েছে, তা ঈশ্বরের ইচ্ছা—আমি এতে সন্তুষ্ট।”

এই পরিবারের কাহিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর, যেখানে বাবা তাঁর ১০ কন্যার নাম মনে করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। যদিও তিনি কোনও পিতৃতান্ত্রিক চাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, আজকের দিনে মেয়েরাও সব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সক্ষম।

এদিকে দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার পর পরিবারে পুত্রসন্তানের আগমনে উচ্ছ্বসিত ১০ দিদি তাঁদের নবজাত ভাইয়ের নাম রেখেছেন ‘দিলখুশ’। সঞ্জয় জানান, তাঁর ১০ কন্যাসন্তানকেই তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!