ডেইলি ডোমকল, লখনউ: উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—এসআইআর) প্রক্রিয়ায় শাসক বিজেপির চাপে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) সভাপতি অখিলেশ যাদব। এই ঘটনাকে “ভোট চুরি” বলে তোপ দেগেছেন সপা সভাপতি।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এতে মোট ১২.৫৫ কোটি ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে রবিবার অখিলেশ যাদব বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যখন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার এসআইআর পরিচালনা করেছে, তখন একই সময়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্যও অনুরূপ সংশোধন প্রক্রিয়া চালিয়েছে। তিনি বলেন, উভয় ক্ষেত্রেই একই বুথ-স্তরের আধিকারিকদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে।
অখিলেশের বক্তব্য, “অবাক করার বিষয় হল, বিধানসভা নির্বাচনের এসআইআর-এর পরে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ২.৮৯ কোটি কমে দাঁড়িয়েছে ১২.৫৬ কোটিতে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের এসআইআর-এর পরে গ্রামীণ ভোটারের সংখ্যা ৪০ লক্ষ বেড়ে হয়েছে ১২.৬৯ কোটি।” এই তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করে সপা প্রধান বলেন, “দুটি এসআইআর-এর মধ্যে কোনটি সঠিক, তা আমাদের জানানো হোক। কারণ একই সময়ে দু’টি পরিসংখ্যানই সঠিক হতে পারে না।” উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপির চাপে কর্তৃপক্ষ ভোটার তালিকায় কারচুপির ‘সমীকরণ’ ঠিকভাবে বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে গোটা প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “তারা ভোট চুরির সমীকরণ সামলাতে ভুলে গেছে, আর তাই সত্যটা এখন সামনে চলে এসেছে।”
তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আগের তালিকায় থাকা ১৫.৪৪ কোটি ভোটারের মধ্যে ২.৮৯ কোটি ভোটার বা প্রায় ১৮.৭০ শতাংশের নাম মৃত্যু, স্থায়ী স্থানান্তর অথবা একাধিক জায়গায় নাম নথিভুক্ত থাকার কারণে খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ৬ মার্চ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
