TOP NEWS

অ্যামাজনে ছাঁটাই সুনামি! চাকরি হারাচ্ছেন ১৪ হাজার কর্পোরেট কর্মী

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে অ্যামাজন। ইতিমধ্যে ই-কমার্স সংস্থাটি তাদের কর্পোরেট শাখা থেকে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৩০ হাজার কর্পোরেট পদ বিলুপ্ত করার যে বৃহত্তর পরিকল্পনা সংস্থাটি নিয়েছে, এটি তারই অংশ। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। এই ছাঁটাইয়ের ফলে সংস্থার মোট কর্পোরেট কর্মীদের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ হারাবেন। তবে ডেলিভারি অপারেশন, গুদাম বা ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে কর্মরত বিশাল সংখ্যক কর্মীবাহিনীর ওপর এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে না বললেই চলে। মূলত প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং ব্যবসায়িক সহায়তা বিভাগগুলি এই কোপে পড়তে পারে।

অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ গত বছর থেকেই খরচ কমানো এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি সংস্থার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ‘হোয়াইট কলার’ বা অফিস-ভিত্তিক কর্মী ছাঁটাই। এর প্রধান কারণগুলি হলো, অতিমারি চলাকালীন ই-কমার্স এবং ক্লাউড সার্ভিসের চাহিদা বাড়ায় সংস্থাটি প্রচুর কর্মী নিয়োগ করেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেই বাড়তি কর্মীবাহিনীকে ছাঁটাই করে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে এবং ব্যবস্থাপনার স্তর কমিয়ে কাজের গতি বাড়াতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন সংস্থার মুনাফার দিকে। তাই খরচ কমিয়ে মার্জিন বাড়ানোর চাপ রয়েছে কর্তৃপক্ষের ওপর। এই ছাঁটাইয়ের পেছনে আর একটি বড় কারণ হলো অটোমেশন এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। যদিও অ্যামাজনের যুক্তি, নতুন প্রযুক্তি প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে। ফলে আগের মতো আর অত কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে না। এটি বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের এক সাধারণ ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার অভ্যন্তরে কর্মীদের মনোবল এবং মেধা ধরে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে অ্যামাজনের মূল ব্যবসা, অর্থাৎ লজিস্টিকস এবং ডেলিভারি নেটওয়ার্ক আগের মতোই শক্তিশালী থাকছে। প্রযুক্তি জগতের বিশ্লেষকদের মতে, অ্যামাজনের মতো প্রভাবশালী সংস্থার এই পদক্ষেপ গোটা শ্রমবাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সংস্থাটি এখন ‘আগ্রাসী বিস্তার’ নীতি ছেড়ে ‘একত্রীকরণ’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!