TOP NEWS

মধ্যপ্রাচ্যে ‘জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ পাঠাচ্ছে আমেরিকা: ইরানকে টক্কর দিতে পারবে এই রণতরী?

110129-N-3885H-158 ATLANTIC OCEAN (Jan. 29, 2011) The aircraft carrier USS George H.W. Bush (CVN 77) is underway in the Atlantic Ocean. George H.W. Bush is underway conducting a composite training unit exercise. (U.S. Navy photo by Mass Communication Specialist 3rd Class Nicholas Hall/Released)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইরান উপকূলের অভিমুখে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সর্বাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ (USS George HW Bush) গত ৫ মার্চ তার প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে জাহাজটি জাতীয় যেকোনো মিশনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেল।

বর্তমানে ইরানের সন্নিকটে আমেরিকার আরও দুটি রণতরী— ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন অবস্থান করছে। নতুন এই জাহাজটি যুক্ত হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আধিপত্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ: এক নজরে সক্ষমতা

এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘নিমিটজ’ ক্লাসের দশম এবং সর্বশেষ জাহাজ। আমেরিকার ৪১তম প্রেসিডেন্ট এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নৌ-বৈমানিক জর্জ এইচডব্লিউ বুশের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।

বিস্ময়কর কিছু তথ্য:

আয়তন ও ওজন: জাহাজটি ১,০৯২ ফুট লম্বা এবং এর ওজন ১ লক্ষ টনেরও বেশি। এর ফ্লাইট ডেক বা বিমান উড্ডয়ন এলাকা প্রায় ৪.৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।

শক্তি: এটি দুটি পারমাণবিক চুল্লি দ্বারা চালিত, যা চারটি স্টিম টারবাইনকে শক্তি জোগায়। এর ফলে জাহাজটি ৩০ নটেরও বেশি গতিতে চলতে সক্ষম।

বিমানের বহর: জাহাজটি একসাথে ৫৬টি ফিক্সড-উইং বিমান (যেমন: F/A-18 হর্নেট, সুপার হর্নেট, গ্রুম্যান ই-২সি হকআই) এবং ১৫টি হেলিকপ্টার বহন করতে পারে।

দ্রুত অপারেশন: এই রণতরী থেকে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে বিমান উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের জন্য এতে ৮,৫০০ টন এভিয়েশন ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানি মজুত থাকে।

যুদ্ধ ওভিজ্ঞতা ও গৌরবময় ইতিহাস

২০০৯ সালে নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে এই রণতরীটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অংশ নিয়েছে। ২০১৭ সালে সিরিয়া ও ইরাকে আইএস (ISIS) বিরোধী ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এ এটি রেকর্ড পরিমাণ ৯০৭ টন গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল, যা ‘ডেজার্ট স্টর্ম’-এর পর যেকোনো মার্কিন রণতরীর জন্য সর্বোচ্চ। ২০২২-২৩ সালে ভূমধ্যসাগরে ন্যাটো মিত্রদের সাথে মহড়া দিয়ে এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করেছিল। জাহাজটিতে প্রায় ৫,০০০ নৌসেনা ও বিমানকর্মী একযোগে কাজ করতে পারেন।

বর্তমান কৌশলগত গুরুত্ব

ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে গত জানুয়ারিতেই মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনা হয়েছিল। এবার জর্জ এইচডব্লিউ বুশ-এর অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে। হোয়াইট হাউসের মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক মোকাবিলাই এই বিশাল সামরিক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!