TOP NEWS

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ

ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তের আনন্দপুরে গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ (suo motu) গ্রহণ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। কমিশনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের রিপোর্ট (ATR) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আনন্দপুরের ‘ওয়াও মোমো’ (Wow Momo) কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড এবং তার জেরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে একটি আনুষ্ঠানিক নালিশ জমা পড়ার পর এনএইচআরসি এই হস্তক্ষেপ করল। জেলাশাসককে পাঠানো বার্তায় কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগ অনুযায়ী এই বিপর্যয় সংস্থার কর্তৃপক্ষের অপরাধমূলক অবহেলা এবং একাধিক সরকারি দপ্তরের তদারকির অভাবের ফল।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগে রাজ্য দমকল বিভাগ, শ্রম দপ্তর, নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং নজরদারির অভাবই এই বড় মাপের বিপর্যয় ডেকে এনেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, এখানে ‘ফ্যাক্টরি অ্যাক্ট’ এবং ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট’-এর ধারাগুলো চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে, যা কার্যত ক্ষতিগ্রস্তদের মানবাধিকার লঙ্ঘনেরই শামিল।

এদিকে, ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সূত্রের খবর, এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও দেহ উদ্ধার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। শুক্রবার বিকেলে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে আনন্দপুরে একটি প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা। পুলিশ প্রথমে এই মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে এই প্রতিবাদের অনুমতি দেয়।

তদন্তকারী দল এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার তাঁদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে, আগুন আসলে ‘ওয়াও মোমো’ কারখানার ভেতর থেকে লাগেনি। বরং কারখানার পাশের ‘পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরস’-এর গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ পুষ্পাঞ্জলি গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস। গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন যে, আগুন মোমো কারখানা থেকেই ছড়িয়েছে। তবে ফরেনসিক প্রমাণ এবং দমকলের প্রাথমিক মূল্যায়ন বলছে আগুনের উৎস ছিল পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরসের গুদামটিই।

বর্তমানে শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসন। গোটা বিষয়টি এখন আদালত এবং মানবাধিকার কমিশনের নজরে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!