ডেইলি ডোমকল, হায়দারাবাদ: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তি পরিস্থিতি এবং ভারতের হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর প্রধান ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। রবিবার তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মিম সাংসদ। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াইসি বাংলাদেশে দুই হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত সরকার বাংলাদেশ-এর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে যে পদক্ষেপই নিক না কেন, আমরা তার পূর্ণ সমর্থন করছি।”
ওয়াইসির বক্তব্য, “বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। সেখানে প্রায় ২ কোটি সংখ্যালঘু মানুষ বসবাস করেন, যাঁরা মুসলিম নন। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যেন উত্তেজনা না বাড়ে। দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডলের মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলি বাংলাদেশের নিজস্ব সাংবিধানিক আদর্শের পরিপন্থী। আমি আশা করি, ড. ইউনুস নিশ্চিত করবেন যাতে বাংলাদেশের সব সংখ্যালঘু সুরক্ষিত থাকেন।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের স্থিতাবস্থা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন ওয়াইসি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে ভারতের স্বার্থবিরোধী শক্তি—যেমন আইএসআই ও চিন—সক্রিয় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও দেশে সাম্প্রতিক লিঞ্চিংয়ের ঘটনাগুলি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিম প্রধান। তিনি কেরলে ছত্তিশগড়ের এক পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যাকাণ্ড এবং উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার এক ছাত্রের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন। ওয়াইসির কথায়, “আইনের শাসন ভেঙে পড়লে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতি সবকিছুকে ছাপিয়ে গেলে এই ধরনের লিঞ্চিংয়ের ঘটনা ঘটে। এগুলির তীব্র নিন্দা জানানো প্রয়োজন।” ওয়াইসি স্পষ্ট বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখা না গেলে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে।
